Cyber Crime

বিধায়কদের ফোন করে চাকরির টোপ! ‘সিনিয়র ব্যাঙ্ক ম্যানেজার’ পরিচয়ে বায়োডেটা চেয়ে প্রতারণার ছক, তদন্তে পুলিশ

মোটা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কার্যত প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জেলার কয়েক জন বিধায়ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:১৬

এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চাকরির সুযোগ রয়েছে। বিধায়কদের কাছে পাঠাতে হবে তাঁদের বায়োডেটা। এমনই ফোন এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ বার্তা পেয়ে চমকে উঠেছেন পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বিধায়ক। মোটা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কার্যত প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জেলার কয়েক জন বিধায়ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে তাঁদের ফোন করা হচ্ছে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, ‘‘আপনার বিধানসভা এলাকায় বেকার যুবক-যুবতীদের বায়োডেটা পাঠান। উপযুক্ত হলে মোটা বেতনের চাকরি রয়েছে।’’ শুধু ফোনেই নয়, একই ধরনের বার্তা হোয়াট্‌সঅ্যাপেও পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতারকদের দেওয়া হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বরে ইতিমধ্যেই কয়েক জন চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা পাঠানো হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

প্রতারণার ছক আঁচ করতে পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। বিধায়ক জানিয়েছেন, এ ধরনের ফোন পাওয়ার পর জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগপত্রে প্রতারকদের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে জামালপুরের বিধায়ককে ফোন করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সম্প্রতি বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সৌমেন ঘোষ জামালপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর দু'টো ৫২ মিনিট এবং বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ অরুণের কাছে পর পর দু’টি ফোন আসে। দু’টি ফোনই করা হয়েছিল একই নম্বর থেকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ বলে পরিচয় দেন। এরপর বিধায়ককে জানানো হয়, তাঁর বিধানসভা এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য তিনটি চাকরির সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত প্রার্থীদের জীবনপঞ্জির পাশাপাশি তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্যও পাঠাতে বলা হয়। ফোনে আরও দাবি করা হয়, পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে কোনও চাকরিপ্রার্থীকে উপযুক্ত মনে হলে তাঁকে মাসে ৪৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়া হবে। চাকরির এমন প্রস্তাবের আড়ালে প্রতারণার ছক রয়েছে বলে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক থানায় অভিযোগ করেন। এখন ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ প্রতারণা চক্রের সদস্যদের সন্ধান চালাচ্ছে।

জামালপুরের বিধায়ক অরুণের দাবি, প্রথম বার ফোন আসার পর তিনি বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কিন্তু দ্বিতীয় বারও একই ধরনের ফোন আসায় তাঁর সন্দেহ হয়। কোনও তথ্য না দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক হন তিনি। সম্ভাব্য প্রতারণার আভাস পেয়ে পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁর আরও দাবি, বিধানসভায় থাকাকালীন তিনি দেখেছেন, একই কায়দায় অন্য বিধায়কদের কাছেও ফোন যাচ্ছে। ফোনের অপর প্রান্তে নিজেদের ‘সিনিয়র ব্যাঙ্ক ম্যানেজার’ বলে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। অরুণের দাবি, কয়েক জন বিধায়ক ওই ফোন পেয়ে চাকরিপ্রার্থীদের জীবনপঞ্জিও পাঠিয়ে দিয়েছেন।

শুধু জামালপুরের বিধায়কই নন, একই ধরনের ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ এবং ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিধায়কদের সামনে রেখে আসলে চাকরিপ্রার্থীদেরই নিশানা করতে চাইছে প্রতারকেরা। বিধায়কের প্যাডে বেকার যুবক-যুবতীদের নাম বা জীবনপঞ্জি পাঠানো হলে তা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে। সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই চাকরি দেওয়ার নামে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share