Calcutta High Court

বেআইনি বহুতল নির্মাণে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের, ভর্ৎসনা কলকাতা পুরসভাকে

কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে এতগুলি বহুতল নির্মাণ হল, তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুরসভা। প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের স্বার্থে সিট গঠন করতে পারবে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫২

বেআইনি বহুতল নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে এ বার কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল। বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার এবং ক্যানেল ইস্ট রোড-সহ শহরের একাধিক এলাকায় ৫০টিরও বেশি বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে এতগুলি বহুতল নির্মাণ হল, তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুরসভা। প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের স্বার্থে সিট গঠন করতে পারবে। আগামী ১৪ অক্টোবর প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বহুতলগুলির নির্মাণের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা বা অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অথচ নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন-সহ একাধিক প্রশাসনিক ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, সেই ন্যূনতম অনুমতি ছাড়াই একের পর এক বহুতল তৈরি হয়েছে। ফলে পুরসভার নজরদারি এবং বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে নির্মাণকাজের আর্থিক লেনদেন ঘিরে। মামলাকারীদের দাবি, এই বহুতলগুলির নির্মাণে বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হয়েছে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার কোনও চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তরের কোনও আর্থিক চক্র এই নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট সংশ্লিষ্ট বহুতলগুলির একটি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালতও বহুতল ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে কলকাতা পুরসভার তরফে যথেষ্ট পদক্ষেপ করা হয়নি।

ফলে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক নজরদারি—পুরসভার ভূমিকা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। এত সংখ্যক বহুতল কী ভাবে অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হল, নির্মাণের সময় পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির নজরদারি কতটা ছিল এবং অভিযোগ ওঠার পরেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ করা হল না—সিবিআই তদন্তে এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

এই মামলার শুনানিতে শুক্রবার বিষয়টি ফের কলকাতা হাই কোর্টের নজরে আসে। বেআইনি নির্মাণের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন ও বৃহত্তর দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রয়োজন হলে সিট গঠন করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার ও ক্যানেল ইস্ট রোডের মতো কলকাতা পুরসভা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশে ৫০টিরও বেশি বহুতল নির্মাণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এ বার সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রবেশ। ফলে শুধু নির্মাণকারীদের ভূমিকা নয়, বেআইনি নির্মাণ রুখতে কলকাতা পুরসভার নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।


Share