Durga Puja Market

চাকরির বাজারে মন্দা, পুজোর আগে ধুঁকছে নিউ মার্কেট থেকে গড়িয়া, মন্দা বাজারে হতাশ ব্যবসায়ীরা

প্রতি বছর পুজোর আগে কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে গড়িয়া মার্কেট—শহরের বিভিন্ন বাজারে উপচে পড়ে ভিড়। কিন্তু এ বার ছবিটা কিছুটা আলাদা। পুজো এগিয়ে এলেও এখনও বাজারে সেই চেনা ভিড়ের দেখা নেই।

নিউমার্কেটে দুর্গাপুজোর বাজার
অরুণিমা কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২৩

আর মাত্র মাসখানেকের অপেক্ষা। তার পরেই বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, জুতো, ব্যাগ, প্রসাধনী থেকে শুরু করে নানা জিনিসপত্র কেনাকাটা। প্রতি বছর পুজোর আগে কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে গড়িয়া মার্কেট—শহরের বিভিন্ন বাজারে উপচে পড়ে ভিড়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ছবিটা বদল হয়েছে। এ বারও সেই একই চিত্র ধরা পড়েছে। পুজো এগিয়ে এলেও এখনও বাজারে সেই চেনা ভিড়ের দেখা মিলছে না।

সারা বছর কলকাতার বিভিন্ন বাজারে যে ধরনের ভিড় থাকে, বর্তমানে নিউ মার্কেট, গড়িয়া-সহ একাধিক বাজারে মোটামুটি সেই ছবিই দেখা যাচ্ছে। পুজোর বাজার ঘিরে যে অতিরিক্ত ভিড় বা কেনাকাটার চাপ তৈরি হয়, তা এখনও চোখে পড়ছে না। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যবসায়ীরা চিন্তায় রয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, সামগ্রিক ভাবে বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে সোনা— প্রায় সব ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তাতে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে। তাই ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে খরচ করার মতো অতিরিক্ত টাকা কমেছে। তারই পুজোর কেনাকাটার বাজারে প্রভাব পড়ছে।

জামাকাপড়ের দোকান থেকে ব্যাগ, প্রসাধনী— প্রায় সব ধরনের ব্যবসাতেই বিক্রি ধীর গতিতে চলছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। পুজোর মরসুমে যে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকে, এখনও তার ধারে কাছেও পৌঁছোতে পারেনি।

এর পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার কারণেও এ ক্ষেত্রে দায়ী বলে তাঁরা মনে করছেন। অনলাইনের মাধ্যমে বাজারের মূল্যের থেকে কমেই বাড়িতে বসে কেনাকাটা হয়ে যায়। তাতে যেমন সময় সাশ্রয় হয় আবার বাজেটেও পুষিয়ে যায়। একটি জায়গা থেকেই যে জিনিস কিনতে হবে তা থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছেন ক্রেতারা। বাজারের পরিসর মুক্ত হওয়ায় মানুষের কাছে বিকল্প তৈরি হয়েছে। 

নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাটে— দু’টোই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গড়ে উঠেছে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় মার্কেট তৈরি করার পরিকল্পনা এই ব‍্যবস্থার মধ‍্য দিয়েই গড়ে ওঠে। এতে ব‍্যবসায়ীরা ন‍্যায‍্য মূল্যের চেয়ে বেশি লাভ করতে চায়। ফলে ক্রেতাদের কাছে বিকল্প না থাকায় কিনতে বাধ্য হন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাজার এখন খুলে গিয়েছে। মানুষের কাছে বিকল্প এসেছে। সে ক্ষেত্রে নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাটে যে মূল্যে স্থানীয় ভাবে তৈরি করা জিনিসপত্র কিনতে হয় তা অনলাইনে নামীদামী সংস্থার পণ‍্য একই দাম বা একটু বেশি দিয়ে কেনা যায়। তাই ক্রেতারা অনলাইনের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাটের মতো ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলিতেও তার প্রভাব পড়ছে।

ব্যবসায়ী শাকিবুল আনসারি বলেন, “বাজার খুব মন্দা। জিনিস তোলার পরেও তেমন বিক্রি নেই। আগে খাওয়ার সময় পর্যন্ত পাওয়া যেত না, আর এখন ব্যবসাই মন্দা।”

নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাট বাজারে যে মন্দা কয়েক বছর ধরেই চলেছে। তৃণমূল জমানায় রাজ‍্যে কোনও ভারী শিল্প হয়নি। কোথাও কোনও বড় মাপের উৎপাদন শিল্প হয়নি। ফলে পুঁজির বিকাশ হয়নি। ফলত নবপ্রজন্মের কাছে উপার্জনের পথও সুগম হয়নি। পালাবদল হয়েছে। বিজেপি বিপুল সংখ্যক মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় বসেছে। রাজ‍্যে যে শিল্পের প্রসার ঘটবে তা নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পরে রাজ‍্যে শিল্পের প্রসার ঘটাতে চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেশ কয়েকটি শিল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে সেগুলি কোনওটিই বড়সড় বিনিয়োগ নয়। আগামী দিনে রাজ্য সরকারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবপ্রজন্ম। 

তবে পুজোর এখনও প্রায় এক মাস বাকি। তাই শেষ মুহূর্তে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ী মহল।


Share