Allegation of BJP

‘মুখ‍্যমন্ত্রী এলেও কিছু হবে না,’ ৩০ হাজার টাকা না দিলে দোকান বন্ধ করার হুমকি, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দমদমে

অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম দেবজিৎ মন্ডল। তিনি উত্তর দমদম বিধানসভার ৩ নম্বর মন্ডলের যুবমের্চার সভাপতি। উত্তর দমদম পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতার পান্তুপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর টাকা চাওয়ার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অভিযুক্ত বিজেপি নেতা দেবজিৎ দত্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম
  • শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৯

টাকা দিলেই দোকান চলবে না হলে তুলে দেওয়া হবে। দেকান মালিকের অভিযোগ, বিজেপি নেতা ৩০ হাজার টাকা তোলাবাজির চেয়েছেন। না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে হুমকি দিয়েছেন। বিজেপি নেতার দাবি, দোকানটি পুকুর ভরাট করে তৈরি হয়েছে। তাই তিনি টাকা চাইছেন। উত্তর দমদম বিধানসভা বিজেপি নেতা নিজেই ‘নীতিপুলিশ’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।

অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম দেবজিৎ মন্ডল। তিনি উত্তর দমদম বিধানসভার ৩ নম্বর মন্ডলের যুবমের্চার সভাপতি। উত্তর দমদম পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতার পান্তুপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর টাকা চাওয়ার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। দোকান মালিকের বক্তব্য, প্রশিক্ষণ বর্গের জন‍্য গত ২৭ অগস্ট তিনি অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার স্টোরে আসেন। সেখানে এসে ৩০ হাজার টাকার একটি বিল কেটে দিয়ে যান। বিজেপি নেতা নিজে এসেই সেই বিল কেটে দিয়ে যান। টাকা না দেওয়া গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা নাগাদ আবার দলবল নিয়ে স্টোরে আসেন। সংস্থার তরফে টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় বিবাদ।

স্টোর মালিকের মেয়ে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, “৩০ হাজার টাকা না দিলে স্টোর বন্ধ হবে। ৩০ হাজার টাকা না দিলে নাকি সে ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। উনি এখানকার এত বড় হনু! আবার বলছে, মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠালেও নাকি ওর কিছু হবে না।” বিজেপি নেতা দেবজিতের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দিলে স্টোর ম‍্যানেজারকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে বলে দোকানের মালিক দাবি করেছেন। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এই দেবজিৎ দত্ত। স্টোরের মালিকের নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারকেও জানানো হয়েছে বলে স্টোরের মালিক জানিয়েছেন।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা দেবজিৎ দত্ত। তাঁর সাফাই, মাত্র এক হাজার টাকার বিল কাটা হয়েছিল। ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়নি। বিজেপি নেতা পাল্টা অভিযোগ, ওই স্টোরের মালিক সিপিএম করেন। প্রথমে নির্মাণ সামগ্রীর দোকান করা হয়েছিল। তার পরে পুকুর ভরাট করে ওই অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার দোকান করা হয়েছে। তাঁকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে বলে দেবজিৎ দাবি করেন। সেই সঙ্গে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

যদি স্টোরটি পুকুর ভরাট করে তৈরি করা হয় তা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা পুরসভার। পাশাপাশি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা। বিজেপি নেতার তা দেখার কথা নয়। বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁর ওপরে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের হাত রয়েছে। তাই অভিযোগ জানিয়েও কিছু লাভ হবে না। এই দেবজিতের বিরুদ্ধে নানা সময়ে রক্তদান শিবিরের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ করছেন এলাকার ব‍্যবসায়ীরা।

তবে ভাইরাল ভিডিয়ো হওয়ার পর থেকে দল বিড়ম্বনায় পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে এখনও রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এর আগে রাজ‍্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একাধিক বার নেত-কর্মীদের সতর্ক করেছেন। এ বার দেবজিতের বিরুদ্ধে বিজেপির কী পদক্ষেপ করে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হল।


Share