TMC Political Crisis

‘জোড়াফুল’ হাতছাড়া হল মমতার, তৃণমূলের প্রতীক পেল না অভিষেকের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীও, উপনির্বাচন লড়তে হবে নিজস্ব চিহ্নেই

১৯৯৮ সালে পথ চলা শুরু করেছিল তৃণমূল। এখন ২০২৬ সাল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হবে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই! উপনির্বাচনের আগে তেমনই রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫২

'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস'নাম এবং প্রতীক 'জোড়াফুল'-এর ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। দু’পক্ষের টানাপড়েনে নির্বাচন কমিশন প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে, আগামী ৬ অক্টোবর হতে যাওয়া নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে কোনও পক্ষই— অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী— দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তৃণমূলের প্রতীক কার দখলে যাবে তা নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। দু’পক্ষই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। তারা কোন প্রতীকে লড়বে, তা তৃণমূলের দুই শিবির এখনও জানে না। বৃহস্পতিবার কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত কোনও পক্ষকেই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে নামটিও আপাতত কোনও পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে দুই শিবিরকে নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে হবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যেতে পারে।

১৯৯৮ সালে পথ চলা শুরু করেছিল তৃণমূল। ২৮ বছর আগে এই প্রতীক নিজের হাতেই এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন ২০২৬ সাল। ২৮ বছর পরে রাজ‍্যে কোনও ভোট হবে তৃণমূলের প্রতীক ছাড়াই। রাজ‍্যের রাজনৈতিক ইতিহাস এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। যা নজিরবিহীন। প্রতীক হিসেবে জোড়াফুলও ব্যবহার করতে পারবে না কালীঘাট কিংবা ঋতব্রতের শিবির। উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীক বা দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

জোড়া উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে বুধবারই। নন্দীগ্রামে মমতার শিবির প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। রেজিনগরে ঋতব্রতদের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান। নন্দীগ্রামে তাদের হয়ে লড়বেন মহম্মদ এহেতাশ মুল হক। কোন প্রতীকে তাঁরা লড়বেন, দলের নামই বা কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।


Share