TMC Political Crisis

জোড়াফুল কার দখলে? মমতা-ঋতব্রতের টানাপড়েনের মধ্যেই কমিশনের ‘ডেডলাইন’, ১৬ সেপ্টেম্বরের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আগামী বুধবারের মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কে তাঁর আর কোনও বক্তব্য বা নথি পেশ করার থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। এর পর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন ফের শুনানির আয়োজন করতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৬

তৃণমূলের দলীয় প্রতীক এবং দলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন অব্যাহত। শনিবার দিল্লিতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছে। আগামী বুধবারের মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কে তাঁর আর কোনও বক্তব্য বা নথি পেশ করার থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। এর পর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন ফের শুনানির আয়োজন করতে পারে।

শনিবার মমতাকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, কালীঘাটের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্যও শুনেছে তারা। দুই পক্ষই কমিশনের কাছে বিভিন্ন নথি জমা দিয়েছে। কমিশনের সচিবের উদ্দেশ্যে ঋতব্রত শিবিরের তরফে ১১ সেপ্টেম্বর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১২ সেপ্টেম্বর পাঠানো একটি ইমেল এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত নথিও কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই নথির মধ্যে রয়েছে আলিপুর আদালতের ৭ জুলাই, ৩ অগস্ট এবং ৬ অগস্টের নির্দেশের প্রতিলিপি। এ ছাড়াও ১২ সেপ্টেম্বর কমিশনের সচিবকে উদ্দেশ্য করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের লেখা একটি চিঠিও জমা দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। এর পাশাপাশি, গত ৫ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের অংশও কমিশনের কাছে পেশ করেছে ঋতব্রত শিবির। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘তৃণমূলকে ঢেলে সাজলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’। দলীয় সংগঠন ও নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিজেদের দাবির সমর্থনে ঋতব্রত শিবির এই নথিগুলিকেই কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে।

এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও কিছু বলার থাকলে বা অতিরিক্ত কোনও নথি পেশ করতে হলে তা ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়া নথির একটি করে প্রতিলিপি প্রমাণ হিসেবে কমিশন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেও পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে।

ঘটনাচক্রে ১৬ সেপ্টেম্বরই রাজ্যের দুই বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তার পরের দিন, অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটেয় দিল্লির নির্বাচন সদনে ফের শুনানি হতে পারে। সেখানেই দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে কমিশন বিতর্কের নিষ্পত্তির পথে এগোবে। এরপরই তৃণমূলের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন সদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।

রাজ্যে ইতিমধ্যেই জোড়া উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ। গণনা হবে ৯ অক্টোবর। ফলে উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কারা লড়বেন, সেই সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মমতাকে পাঠানো কমিশনের চিঠি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি নির্বাচন কমিশনের দফতরে কালীঘাটের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। 


Share    

TMC