Bangladeshi Thief

বৈধ ভিসা নিয়ে কলকাতার এসে মোবাইল চুরি! উদ্ধার ৫৬টি মোবাইল ফোন, ধৃত বাংলাদেশি-সহ দু’জন

বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালবাজারের গোয়েন্দারা পার্ক স্ট্রিটের কিড স্ট্রিটে ক্লাসিক হোটেলের কাছে অভিযান চালায়। সেখান থেকে দুই সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁদের কাছ থেকে তল্লাশি চালাতেই ৫৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সবকটি মোবাইল ফোন বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি, ছিনতাই করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি আইফোন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ধৃতের নাম আসিফ আলি এবং বাংলাদেশি যুবক ইমরান আহমেদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৯

আবার মোবাইল চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হল বাংলাদেশি যুবক। ধৃতের নাম ইমরান আহমেদ (২৩)। তাঁকে পার্ক স্ট্রিট থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। ইমরান ছাড়াও আসিফ আলি ওরফে ছোটু নামে এক কামারহাটির এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ৫৬টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালবাজারের গোয়েন্দারা পার্ক স্ট্রিটের কিড স্ট্রিটে ক্লাসিক হোটেলের কাছে অভিযান চালায়। সেখান থেকে দুই সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁদের কাছ থেকে তল্লাশি চালাতেই ৫৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সবকটি মোবাইল ফোন বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি, ছিনতাই করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি আইফোন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে ইমরান আহমেদ বাংলাদেশি। ইমরান বাংলাদেশের শরিয়তপুরের বাসিন্দা। ভারতে বৈধ ভিসা এবং পাসপোর্ট নিয়ে এসেছে। টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ইমরান এই দেশে এসেছিল। নভেম্বর পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ রয়েছে। একাই এই দেশে এসেছিল। কীভাবে এই চুরি সিন্ডিকেটেপ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল ইমরান, সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। মেসেজ করা হলেও তাঁর কোনও জবাব দেননি।

ঘটনায় পার্ক স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার চুরি-সহ চারটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন‍্য দিকে, ভিসার নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ফরেনার্স আইনের ১৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চুরির ফোনগুলি হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছিল বলে সূত্রের খবর। ফোন চুরির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল কি না তা নিয়েও স্পষ্ট করেনি লালবাজার।

উল্লেখ্য, গত  বছরে ন’জন বাংলাদেশি নাগরিককেরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইল চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের সঙ্গেই বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মোবাইল চুরির অপারেশন চালায়।

তাঁরা শহরে কীভাবে এলেন? অনুপ্রবেশ না বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি এখানে এসেছেন, তা নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈধ ভিসা নিয়ে তাঁরা এখানে এসেছেন। কেউ পর্যটন ভিসা নিয়ে এসেছেন ভারত ঘুরে দেখার জন্য আবার কেউ এ রাজ্যে চিকিৎসা করানোর দাবি নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয় মোবাইল চোরেদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়। যুক্ত হওয়ার পরে নির্দিষ্ট জনবহুল স্থান নির্বাচন করে অপারেশন চালায়।

তবে বাংলাদেশি চোরেদের নিশানায় ছিল অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন। গতকালও যে ফোন উদ্ধার হয়েছে সেগুলিও অ‍্যানন্ড্রয়েড। আইফোনের দিকে নিশানা তুলনামূলক ভাবে কম নিশানা করা হয়। লালবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের কারও কাছ থেকে ৫৩টি, কারও কাছ থেকে ৫৬টি, কারও কাছ থেকে ৩১টি, কারও কাছ থেকে ২২টি আবার কারও কাছ থেকে ১৭টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত পাওয়া গিয়েছে। এই মোবাইল ফোনের মধ‍্যে মাত্র ১০টির মতো আইফোন রয়েছে। বাকি সবই অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন।

কেন অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনকে বেশি নিশানা করা হয়, তার কারণ বলতে গিয়ে লালবাজারের এক কর্তা জানান, অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন দ্রুত খোলা যায়। সিকিউরিটি ফিচার আইফোনের তুলনায় অনেকটাই কম। আইফোন একবার লক হলে তা খেলার ঝামেলা রয়েছে। মালিকের অনুমতি ছাড়া হাতবদল হওয়া আইফোন খোলা কার্যত অসম্ভব। এই ঝামেলা এড়াতে চোরেরা অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনকেই নিশানা করে।

তবে যে পরিমাণ মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি চুরি হয়েছে। এর অধিকাংশেরই হদিশ এখনও মেলেনি বলেই এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন। তবে সেই মোবাইল ফোন গেল কোথায়? গত বছর পার্ক সার্কাস স্টেশন থেকে এক কলেজ ছাত্রীর মোবাইল পকেট থেকে চুরি হয়। সেই মোবাইল ফোনের ‘সুইচ অন’ হয় বাংলাদেশে। তাহলে শহর থেকে চুরি হয়ে যাওয়া মোট মোবাইল ফোনের মধ্যে কত মোবাইল বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি লালবাজার। ওই পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের সীমানার মধ্যে চুরির মোবাইল চিহ্নিত করার প্রযুক্তি রয়েছে। যদি চুরি যাওয়া মোবাইল বাংলাদেশ বা অন‍্য কোনও দেশে সুইচ অন হয় তা চিহ্নিত করার প্রযুক্তি নেই। তা হলে ওই ছাত্রীর চুরি যাওয়া মোবাইল বাংলাদেশেই অন হল, কীভাবে তা চিহ্নিত করা হল, যুক্তি মিলছে না।

যে ন’জন বাংলাদেশি নাগরিক এই মোবাইল চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল তাদের মধ‍্যে চার জনের বাড়ি চট্টগ্রামে, দু’জন ঢাকার এবং তিন জন সিলেটের বাসিন্দা বলে লালবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে। সেই তালিকায় আরও একজন যুক্ত হল।


Share