Maoist Arrested

পোলেরহাট থেকে গ্রেফতার মাওবাদী জঙ্গি অসীম মন্ডল! মাথার দাম ছিল দু’কোটি টাকা, ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও

সূত্রের খবর, বাঁকুড়ায় আসিম মণ্ডলের স্কোয়াডের তিন মাওবাদী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রামপ্রসাদ মার্ডি, তাঁর স্ত্রী মীতা ওরফে নয়নতারা এবং গৌরী। আঞ্চলিক কমিটির সদস্য রামপ্রসাদের মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা।

কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৪

ভাঙড়ের পোলেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদী জঙ্গি নেতা আকাশ ওরফে অসীম মন্ডল। তবে মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করেছে। কলকাতা পুলিশের বক্তব্য, তিনি পটাশপুরে থাকতেই পারেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। তাই সঠিক বলা যাবে না। জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে। ওই মাওবাদী জঙ্গিনেতার মাথার দাম ছিল দু’কোটি টাকা।

অসীম মন্ডল ওরফে আকাশ (৬৪) চন্দ্রকোনার ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা। গত আটের দশকে থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিষেণজিকে নিকেশের পরে ঝাড়খণ্ডের দিকে পালিয়ে যায়। আকাশ মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিল। ২০১০ সালে সুদীপ চোংদারের মৃত্যুর পরে আকাশ রাজ‍্য কমিটির সম্পাদক হয়। আরেক মাওবাদী জঙ্গি কোটেশ্বর  রাওয়ের মৃত্যুর পরে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার দায়িত্বে পায় আকাশ।

গ্রেফতারির ঘটনার পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক করেন কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। তিনি জানিয়েছেন, বেলা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করার পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিত্তিতেই অসীমের ওপরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ভাঙড়ের পোলেরহাটে গা ঢাকা দেয় সে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেড়টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক অসীমকে গ্রেফতার করে। অসীমের কাছ থেকে পেনড্রাইভ, ৯৫ হাজার টাকা নগদ এবং কিছু চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

ধৃতের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের লালগড়ে একাধিক মামলা রয়েছে। দেশ বিরোধী কার্যকলাপ আইনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। ঝাড়খণ্ডেই ১৭টি মামলা রয়েছে। আকাশ দলমা স্কোয়াডের সদস্য ছিল। মূলত সারেন্ডার জঙ্গলে কার্যকলাপ চালাত। পুলিশের ভয়ে কিছু লোক সেখান থেকে এ রাজ‍্যে চলে এসেছে। তার মধ্যে এই অসীমও ছিল বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ।

তবে সূত্রের খবর, বাঁকুড়ায় আসিম মণ্ডলের স্কোয়াডের তিন মাওবাদী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রামপ্রসাদ মার্ডি, তাঁর স্ত্রী মীতা ওরফে নয়নতারা এবং গৌরী। আঞ্চলিক কমিটির সদস্য রামপ্রসাদের মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা।

গত ২০২০ সালে ঝাড়খণ্ডের চাইবাসার কারাইকেলা থানার এলাকায় মাওবাদী জঙ্গিনেতা আসীম মণ্ডলের স্কোয়াডের হামলায় এক জওয়ান বীরগতি প্রাপ্তি হন। তারও আগে ২০১৮ সালে পূর্ব সিংভূমের এমজিএম থানার অন্তর্গত ঝাঁটি পাহাড়ে অসীমের স্কোয়াডের হামলায় আরও এক জওয়ান বীরগতি প্রাপ্তি হন। ২০২৩ সালে ঝাড়খণ্ডের চাইবাসার টন্টো থানার অন্তর্গত টুম্বাহাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটে। এমনকী, আইইডি বিস্ফোরণও হয়েছিল। সেই ঘটনায় সিআরপিএফের ২০৯ কোবরা ব্যাটালিয়নের ন’জন জওয়ান জখম হন।

আবার গত ২০২৫ সালে রাধাপোরায় ঝাড়সুগুড়া থানার এলাকায় ঝাড়খণ্ড পুলিশের জাগুয়ারের এক জওয়ান আসীম মণ্ডলের স্কোয়াডের হামলায় বীরগতি প্রাপ্তি হন। চলতি বছরে মার্চ চাইবাসার ছোটনাগরা থানার অন্তর্গত মরাংপোঙ্গায় আসীম মণ্ডলের স্কোয়াডের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে সিআরপিএফের ২০৯ কোবরা ব্যাটালিয়নের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট-সহ দুই নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর হন।

মাওবাদী জঙ্গি অসীম মন্ডলকে জেরা করতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি দল কলকাতায় আসবে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে হেতু অসীমের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে তাই সেই রাজ‍্যের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বলে জানিয়েছেন কমিশনার অজয়কুমার নন্দ।


Share