Lok Bhawan Clash

স্বাধীনতা দিবসের দিনে লোকভবনে বাংলাদেশি বৃহন্নলাদের তান্ডব, মারধর, তদন্ত শুরু করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

আক্রান্তের নাম সেনামনি শেখ ওরফে অলিভিয়া। তিনি রায়গঞ্জের বাসিন্দা। লোকভবনে আমন্ত্রিত ছিলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিয়ো থেকে সংগৃহীত ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৫

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহরের ট্রান্সজেন্ডারদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের লোকভবনে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবি। আমন্ত্রণে সারা দিয়ে তাঁরা এসেও ছিলেন। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানানো হয়। রাজ‍্যপালকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন‍্য দাবি জানানো হয়। তবে কোনও ব‍্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকেও ইমেল মারফত জানানো হয়েছে। তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

আক্রান্তের নাম সেনামনি শেখ ওরফে অলিভিয়া। তিনি রায়গঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর বক্তব্য, তিনি রাজ‍্যের এক মন্ত্রীর আমন্ত্রণে লোকভবনে এসেছিলেন। তিনি সেখানে সমাজসেবী হিসেবেই এসেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষের পরে তিনি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ‘রিস্তা’ নামে এক ট্রান্সজেন্ডারদের সংগঠনের কয়েক জন সদস্য সোনামনিকে মারধর করে। সন্তোষ গিরি এবং সুইটি খানের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ২০১৭ সালে বোলপুরে এক ট্রান্সজেন্ডারকে খুনের ঘটনায় সুইটিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সুইটি জামিনে মুক্ত রয়েছেন বলেও তিনি রাজ‍্যপালকে জানিয়েছেন।

একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দু’পক্ষই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। যদিও ‘এখন কলকাতা’ ভিডিয়োর সত‍্যতা যাচাই করেনি।

রাজ‍্য ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের সদস্য রঞ্জিতা সিংহের বক্তব্য, যাঁরা সেখানে সোনামনিকে মারধর করেছে, তাঁরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশে তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁরা নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াতও করেন। টাকাও পাঠান। রঞ্জিতা তাঁদেরকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেও অভিযোগ করেছেন।

রঞ্জিতা সিংহ সরকারের ভূমিকায় বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরেই এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছি। ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে শীর্ষ আদালতেও গিয়েছি। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে কারা ‘বাংলাদেশি ট্রান্সজেন্ডার’, তা জানিয়েছি।” পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁরা এখানে এসেছেন বলে দাবি করে রঞ্জিতার আরও বক্তব্য, সরকার বাংলাদেশিদের ধরে হোল্ডিং সেন্টারে রাখছে। তা হলে এদের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এটাকে সরকারকেই দ্বিচারিতা বলে দাবি করেন রঞ্জিতা।

ঘটনার পরে আক্রান্ত সোনামনি শেখ রাজ‍্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবিকে ইমেল মারফত জানিয়েছেন। ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার দাবি করেছেন। ঘটনার পরে রঞ্জিতা হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনায় পুলিশ এখনও এফআইআর দায়ের করেনি। থানার ডিউটি অফিসারের ছুটিতে আছেন বলা হয়। ঘটনাটি রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ইমেল মারফত জানিয়েছেন।

তাঁর আরও অভিযোগ, যাঁরা মারধর করেছে, তাঁদের কারও আমন্ত্রণপত্র ছিল না। লোকভবনের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় কীভাবে মারধরের ঘটনা ঘটল, ‘বাংলাদেশিরা’ কীভাবে সেখানে প্রবেশ করল তা নিয়েও তদন্তের দাবি জানান। যদিও এই বিষয়ে সুইটি খান বা সন্তোষ গিরির কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


Share