Medicine Shop

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে লাগাম! দেশের সব ফার্মেসিতে সিসিটিভি বাধ্যতামূলকের পথে কেন্দ্র

চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ বিক্রির গোটা প্রক্রিয়া দোকান বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২১

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনাবেচায় এ বার লাগাম টানতে উদ্যোগী কেন্দ্র। প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধের বেআইনি বিক্রি রুখতে এবং ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে দেশের সমস্ত ওষুধের দোকানে সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ বিক্রির গোটা প্রক্রিয়া দোকান বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ কোন প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে, কী ওষুধ এবং কী ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে, তার দৃশ্যমান রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রস্তাবিত নিয়মে শুধু সিসিটিভি বসানোই যথেষ্ট নয়। ফার্মেসি এবং অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরো ওষুধ বিক্রেতাদের সিসিটিভি ফুটেজও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুরক্ষিত ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অন্তত তিন মাস বা ৯০ দিন ওই রেকর্ডিং সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে। এর ফলে ওষুধ বিক্রির প্রক্রিয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি বেআইনি বিক্রি ঠেকানোও সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি আরও জোরদার করা। কোনও ওষুধ বৈধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতেই বিক্রি হয়েছে কি না, তা যাতে পরবর্তী সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকেরা যাচাই করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ কেনা এবং সেবনের প্রবণতা, অর্থাৎ ‘সেলফ-মেডিকেশন’, বন্ধ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই শিশুদের বড়দের জন্য নির্ধারিত কফ সিরাপ বা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ওষুধ খাওয়ানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় রাশ টানতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের রাখা হয়নি। অর্থাৎ, হোলসেলারদের ক্ষেত্রে সিসিটিভি সংক্রান্ত এই বাধ্যতামূলক বিধি প্রযোজ্য হবে না।

‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এর ৬৫ নম্বর নিয়মে একটি নতুন উপ-নিয়ম সংযোজন করে এই খসড়া প্রস্তাব আনা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে শিডিউল এইচ, শিডিউল এইচ-১ এবং শিডিউল এক্স-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধের প্যাকেটে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার সতর্কবার্তা থাকে। তবে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত সিসিটিভি ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট শিডিউলের ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হয়—এমন যে কোনও ওষুধ খুচরো পর্যায়ে বিক্রির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।

সম্প্রতি ওষুধ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশনের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পাওয়া কয়েক ধরনের কফ সিরাপকে সেই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। তার পরেই ওষুধের দোকানে সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সামনে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এই নিয়ম এখনও কার্যকর হয়নি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি আপাতত খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষ, ওষুধ ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ চেয়েছে কেন্দ্র। সেই সময়সীমার মধ্যে জমা পড়া মতামতগুলি পর্যালোচনা করার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর গেজেটে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা কার্যকর হওয়ার তারিখও জানানো হবে।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হলে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়বে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বেআইনি ভাবে ওষুধ বিক্রি এবং নকল বা ভুয়ো ওষুধের কারবার নিয়ন্ত্রণেও এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, তা নজরে থাকবে।


Share