Bangladeshi Visa Cancelled

চার হাজারে বেশি ভিসা বাতিল করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে বিপাকে বাংলাদেশিরা

ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। আইনি কোনও সমস্যাও নেই।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমিরশাহি
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৬

এক সাথে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি ভিসা বাতিল করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কেন বাতিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে নিজের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না তাঁরা। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে তুলেছে। বাতিল হওয়া ভিসাগুলি পুনর্বিবেচনার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

জানা গিয়েছে, মোট চার হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বাতিল করে দিয়েছে। অভিযোগ, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাঁদের ভিসা বাতিলের খবর এসেছে। গত ২৭ বছর ধরে বসবাসকারী আবুল কালাম আজাদ গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। ২৪ জুলাই ইমেলের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবে সেই ইমেলে ভিসা বাতিলের কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবে  ভিসা বাতিল হওয়া প্রায় ৩৫০ জন বাংলাদেশি জমায়েত করেন। সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে তাঁরা জানান, জুলাই মাস থেকে ইমেল বা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ভিসা বাতিলের নোটিস আসতে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিশাহিতে থাকা তাঁদের স্পনসরদের কাছেও একই ধরনের বার্তা পৌঁছেছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের এ-ও দাবি, তাঁদের পুনর্বাসন দিতে হবে। যতক্ষণ না সমস্যা সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা করতে হবে। পরিবার পিছু মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি টাকায় আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। আইনি কোনও সমস্যাও নেই। তাঁর কথায়, “আমার সেখানে দু’টি ব্যবসা রয়েছে এবং আমার স্ত্রীও সেখানে থাকেন। আজ আমার দুবাইয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু এখন সমাধানের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।”

‘সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি’-র চেয়ারম্যান এমএস শাকিল চৌধুরি বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভিসা যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। সময় মতো ভিসা নবীকরণ না করা বা নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলিও আরও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়াও, একাধিক বার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভিসা প্রাপকেরা সামাজমাধ্যমে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করে। তা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই এমন বিষয়গুলিও বেশি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান শাকিল।

গত ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে শ্রমিক যাওয়া শুরু হয়। গত প্রায় পাঁচ দশকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ওই দেশে বর্তমানে সেখানে ১২ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন।


Share