Calcutta High Court

মাহেশ নয়, এ বার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে মমতার সভা, ২৬ সেপ্টেম্বর অনুমতি হাই কোর্টের, বেঁধে দেওয়া হল একাধিক শর্ত

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত সর্বাধিক ১০০০ জনকে নিয়ে কর্মসূচি করা যাবে। তবে জিটি রোডে কোনও মিছিল করা যাবে না।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৫৮

শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। কালীঘাট তৃণমূল আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সেখানে কর্মসূচি করার অনুমতি পেয়েছে। তবে সভার জন্য আদালত একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত সর্বাধিক ১০০০ জনকে নিয়ে কর্মসূচি করা যাবে। তবে জিটি রোডে কোনও মিছিল করা যাবে না। পাশাপাশি সভার জেরে যাতে জিটি রোডে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, আদালত তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে।

কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ওই কর্মসূচিতে প্রায় ২০০০ জনের জমায়েতের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য তাতে আপত্তি জানায়। রাজ্যের বক্তব্য, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দান তুলনামূলক ভাবে ছোট এবং জায়গাটিও সংকীর্ণ। তার উপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পান। ফলে নিরাপত্তার কারণে মঞ্চের সামনে এবং আশপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। সেই জায়গা বাদ দিয়ে ২০০০ মানুষের জমায়েত হলে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজ্য।

যদিও রাজ্যের তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোর্ট ময়দানে এর আগে শ্রেয়া ঘোষালের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল। ফলে ২০০০ মানুষের সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে জায়গার সমস্যা হওয়ার যুক্তি ঠিক নয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শেষ পর্যন্ত এক হাজার জনের জমায়েতের অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে সময়সীমা ও যান চলাচল সংক্রান্ত শর্তও বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর কালীঘাট তৃণমূল শ্রীরামপুরের মাহেশে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। সেই কর্মসূচিতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। প্রথমে মিছিল এবং পরে সভা করার পরিকল্পনা ছিল দলের। কিন্তু পুলিশি অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কলকাতা হাই কোর্টে বিষয়টি গড়ায়।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মাহেশের স্নানপিঁড়ি ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় মাঠ সংলগ্ন জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড। তাদের দাবি ছিল, স্নানপিঁড়ি ময়দান ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে আর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ মাঠ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনেই একক বেঞ্চ কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে বলে অভিযোগ করে ট্রাস্টি বোর্ড। এর পর প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি ফের একক বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত কর্মসূচির দিন পিছিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। সেখানে আদালত জানায়, মাঠ কর্তৃপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে একক বেঞ্চকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হয়। তবে মাহেশের স্নানপিঁড়ি ময়দানের পরিবর্তে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি দিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ। তবে সভায় জমায়েত, সময় এবং জিটি রোডে মিছিল ও যান চলাচল সংক্রান্ত একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত।


Share