Middle East Conflict

পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উত্তেজনা, ইরান-আমেরিকাকে সংযমের বার্তা চিনের, হুথি হামলায় চড়ছে সৌদির উদ্বেগ

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চিন সফরে গিয়ে বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বেজিং।

(বাঁ দিকে) ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৭

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ও উত্তেজনা প্রশমনে এ বার ইরানকে সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিল চিন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চিন সফরে গিয়ে বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বেজিং।

চিনের তরফে অবিলম্বে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আরাঘচি-ওয়াং বৈঠকের পর ইরান এবং আমেরিকা— উভয় দেশকেই যুক্তিপূর্ণ আচরণ এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে চিন।

বিতর্কিত বিষয়গুলির সমাধানে আলোচনার পথে ফেরার বার্তাও দিয়েছে বেজিং। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ইরান ও আমেরিকাকে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’য় ফিরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ওয়াং বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা দরকার। তাঁর বক্তব্য, চিন কোনও ভাবেই চায় না পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক। বিশেষ করে ইয়েমেন এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাতের আঁচ যাতে না পৌঁছোয়, সে বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে বেজিং।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ, সমন্বয় এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চিন আগ্রহী বলে স্পষ্ট করেছেন ওয়াং ই। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে তার আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বেজিং সফর এবং চিনের বার্তা তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বুধবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরবে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা সৌদিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রিয়াধের দাবি, ইয়েমেন থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হয়েছে। মক্কার কাছেও একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। এর পরেই মক্কার আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

তবে মক্কাকে নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি। তাদের পাল্টা দাবি, সৌদির একটি যুদ্ধবিমান তারা গুলি করে নামিয়েছে। বুধবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি, ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার জন্যও ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে।


Share