Dengue

সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত, কলকাতায় আক্রান্ত ৫০০ ছাড়াল! ১২ ওয়ার্ডে বাড়ছে সংক্রমণ, হটস্পট ৬ নম্বর

তার মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেটিকে অন্যতম ডেঙ্গি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩২

কলকাতায় ডেঙ্গির দাপট বাড়ছে। ৫০০ পেরিয়েছে শহরে আক্রান্তের সংখ্যা। কলকাতা পুরসভার নজরে এখন ১২টি ওয়ার্ড। তার মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেটিকে অন্যতম ডেঙ্গি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিৎপুর ও কাশীপুরের অংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডে একই এলাকায় একাধিক আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার দু'জন। অগস্টের শেষে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আড়াই হাজারেরও কম। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জেলার হিসাবে মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৭২। তার পরেই রয়েছে কলকাতা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ পেরিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় আক্রান্ত প্রায় ৪৫০ জন।

কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১২টি ওয়ার্ডে সংক্রমণের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। তবে প্রকাশ্যে আসা সর্বশেষ রিপোর্টগুলিতে ওই ১২টি ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ তালিকা বা প্রতিটি ওয়ার্ডের আলাদা আক্রান্তের সংখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বাকি ওয়ার্ডগুলির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নিয়ে পুরসভার বিশেষ নজর রয়েছে। চিৎপুর ও কাশীপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৫৬ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় মোট ৪৬১টি ডেঙ্গি কেস নথিভুক্ত হয়েছিল। তার মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৫-এর বেশি আক্রান্ত থাকায় এলাকাটিকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লকগেট রোড, করিম বক্স রো এবং লালাবাবু লেন সংলগ্ন এলাকায় একাধিক আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। একই এলাকায় পরপর আক্রান্তের সন্ধান মেলায় সেখানে সংক্রমণের ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে বলে পুরসভার নজরে এসেছে। মশার লার্ভার উৎস খোঁজা, বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় মশানাশক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুধু ৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, কলকাতার আরও ১১টি ওয়ার্ডে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি বলে পুরসভার তথ্য উদ্ধৃত করে রিপোর্ট হয়েছে। তবে সেই ওয়ার্ডগুলির পৃথক কেস-সংখ্যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে কোথায় কত জন আক্রান্ত—তার পূর্ণাঙ্গ, সর্বশেষ ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা এই মুহূর্তে প্রকাশিত সরকারি তথ্য থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ দিকে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ডেঙ্গি মোকাবিলায় নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এসওপি কার্যকর হয়েছে। বাড়ি বাড়ি নজরদারি, জ্বরের রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং উপসর্গ থাকলে রক্ত পরীক্ষা করানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ ডেঙ্গি পরীক্ষার অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপের তালিকায় কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিও রয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি পাওয়া স্বাস্থ্য দফতরের হিসাবে নদিয়া ও মালদহে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০-র বেশি করে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৬৭, হাওড়া ও হুগলি মিলিয়ে প্রায় ৩২৫, পূর্ব বর্ধমানে ২৫৬ এবং পশ্চিম বর্ধমানে ১৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ডেঙ্গির পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও নজরে রাখছে পুরসভা, কারণ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি কলকাতায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের ১৭ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ১৮ সেপ্টেম্বরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পরে বিভিন্ন জায়গায় জল জমলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় পুরসভার মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নতুন এসওপি-র আওতায় বাড়তি পরীক্ষা হওয়ায় আগে ‘অজানা জ্বর’ হিসেবে চিহ্নিত কিছু রোগও ডেঙ্গি হিসাবে শনাক্ত হচ্ছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরীক্ষার পরিমাণ ও নজরদারি বাড়াকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর।

অর্থাৎ, ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতিতে কলকাতায় ডেঙ্গির সবচেয়ে স্পষ্ট ক্লাস্টার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। পাশাপাশি মোট ১২টি ওয়ার্ডে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি বলে পুরসভার তথ্য। শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ পেরিয়ে যাওয়ায় এবং রাজ্যজুড়ে আক্রান্ত পাঁচ হাজার দু'জন ছাড়ানোয় ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও পরীক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।


Share