Stock Market

টাকার রেকর্ড ধস, তেলের আগুনে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের বড় প্রভাব ভারতে

দিনের শুরুতে চাপ বাড়লেও পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একসময় ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে যায় ৯৬.৯৬-এ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১২:৪৬

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গভীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই টাকার দরে লাগাতার পতন দেখা যাচ্ছে। বুধবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে টাকার দর নেমে যায় রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে। এক ধাক্কায় ৩৩ পয়সা পড়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য দাঁড়ায় ৯৬.৮৬। আগের সেশনে যা ছিল ৯৬.৫৩। এর ফলে আগের সর্বনিম্ন স্তর ৯৬.৬১৫০-ও ভেঙে যায়। গত সপ্তাহ থেকেই ধারাবাহিক ভাবে দুর্বল হচ্ছে ভারতীয় মুদ্রা।

দিনের শুরুতে চাপ বাড়লেও পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একসময় ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে যায় ৯৬.৯৬-এ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চস্তরে রয়ে গিয়েছে। তার জেরেই নতুন করে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মুদ্রার উপর।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত টাকার দর প্রায় ছয় শতাংশ কমেছে। আমদানি নির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারতের আমদানি খরচও বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি বিদেশি লগ্নি কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে দেশের আর্থিক অবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে দেশের ব্যালান্স অফ পেমেন্টস ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী হওয়াও টাকার উপর চাপ বাড়িয়েছে। ডলার ইনডেক্স বেড়ে প্রায় ৯৯.৪-এ পৌঁছেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে মার্কিন সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ স্তরে থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই জল্পনাই ডলারকে আরও শক্তিশালী করছে।

আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারেও বড় নড়াচড়া দেখা গিয়েছে। মার্কিন ১০ বছরের বন্ড ইয়েল্ড বেড়ে ৪.৫ শতাংশের উপরে উঠে গিয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ বছরের বন্ড ইয়েল্ড ৫.১ শতাংশ পার করেছে। ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভারতীয় রুপির মতো উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলির উপর চাপ বেড়েছে।

তবে উদ্বেগের এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেকর্ড ডিভিডেন্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই-এর প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ কিছুটা কমাতে পারে এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সাহায্য করবে। যদিও বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে যাওয়া এবং টাকার দুর্বলতা এখনও দেশের অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।


Share