Body Recovery

বিয়ের চার মাসের মাথায় মৃত্যু বধূর! বাগদায় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ

বিয়ের চার মাসের মাথায় তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে বাপের বাড়ির পরিবার।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগদা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১২

বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় মৃত্যু হল এক তরুণীর। নিজের ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার নাটাবেড়িয়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ের মৃত্যুর জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মৃতার পরিবার দায়ী করেছে।

মৃতার নাম সামিয়া মণ্ডল (১৯)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস চারেক আগে রানাঘাটের কুটিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল দফাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সূত্রে মনিরুল বিদেশে চলে যান। সেখান থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ কলে তিনি কথা বলতেন।

সামিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের শিকার তাঁকে হতে হচ্ছিল। মনিরুল বিদেশে চলে যাওয়ার পর সেই অত্যাচার আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। এমনকী বিদেশ থেকে ফোনে কথা বলার সময় স্বামীর কথাবার্তাতেও সামিয়া মানসিক চাপে থাকতেন বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের দাবি, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সামিয়া কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে যোগাযোগ করেন। তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও জানান। এরপর তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার রাতেও স্বামীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে তাঁর কথা হয়েছিল। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাঝরাতে ঘর থেকে সামিয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামিয়া আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বাগদা থানায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


Share