One Class One Teacher

এক ক্লাসের পড়ুয়াদের দায়িত্বে থাকবেন একজন শিক্ষক! রাজ‍্যে প্রাথমিক শিক্ষায় চালু হবে নতুন নিয়ম, ঘোষণা চেয়ারম্যানের

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্কুলে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি চালুর পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের, পড়ুয়াদের অগ্রগতির দায়িত্বে থাকবেন নির্দিষ্ট শিক্ষক।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৩

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের অগ্রগতির উপর নজরদারি বাড়াতে নতুন নীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি অনুযায়ী, প্রাথমিকের প্রতিটি শ্রেণির দায়িত্বে থাকবেন একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক। ওই শ্রেণির সমস্ত পড়ুয়ার পড়াশোনা, অগ্রগতি এবং পিছিয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করার দায়িত্বও থাকবে তাঁর উপর। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান, অ্যাড হক কমিটির সদস্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলির চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে শিক্ষক নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকসংখ্যা ও পঠনপাঠনের মানোন্নয়নের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে ৩০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় বহু ক্ষেত্রে এই অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে শ্রেণিভিত্তিক দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিতে চাইছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় কোনও শ্রেণির পড়ুয়ারা পিছিয়ে পড়লে তার কারণ খতিয়ে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে। এমনকী, পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নতির সঙ্গে শিক্ষকের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকেও যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

দীপক বর্মনের বক্তব্য, প্রাথমিক স্তরের সমস্ত বিষয় পড়ানোর মতো যোগ্যতা নিয়েই শিক্ষকরা নিযুক্ত হন। তাই কোনও শ্রেণিতে ২০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১৫ জনের উন্নতি না হলে, তার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নিতে হবে। পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও তাঁকেই উদ্যোগী হতে হবে।

পাশাপাশি, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ইগো সরিয়ে রেখে দায়িত্ব পালনের বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। ছবি তোলা বা প্রচারের বদলে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে বেসরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকসংখ্যা এবং পড়ুয়াদের শিক্ষার মান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।


Share