Flash Flood

ভুটানে শিনটাফু লেক ফেটে নেমে এল ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল! উত্তরবঙ্গের সঙ্কোশ নদীতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা, রাতভর আতঙ্কে ঘুম উড়ল বাসিন্দাদের

এই বিপুল জলরাশির জেরে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রাতেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী এলাকায় জারি করা হয় উচ্চ সতর্কতা। আতঙ্কে কার্যত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন দুই জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বহু বাসিন্দা।

ভুটানের শিনটাফু লেক ফেটে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল উত্তরবঙ্গে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫১

নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই ভুটানের শিনটাফু লেক ফেটে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল উত্তরবঙ্গে। লেক ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসায় আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভেঙে যাওয়া লেক থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল নেমে এসেছে মো নদীতে। এই বিপুল জলরাশির জেরে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রাতেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী এলাকায় জারি করা হয় উচ্চ সতর্কতা। আতঙ্কে কার্যত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন দুই জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বহু বাসিন্দা।

ভুটান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাংলা-অসম সীমান্তের সঙ্কোশ নদীতে। জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতেই তৎপর হয় ব্লক প্রশাসন। রামপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্কোশ নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে গভীর রাত থেকে মাইকিং শুরু করা হয়। বক্সিরহাটের সঙ্কোশ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই গবাদি পশু নিয়ে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজনকে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের নির্ধারিত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশঙ্কা, ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি ঢলের জল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ইতিমধ্যেই কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তার উপর শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় ভিডিও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও জানিয়েছেন, যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফের দলকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।

এ দিকে, শুধু ভারত নয়, ভুটানেও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত পুনাতসাংচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। নদীর জলস্তর আচমকা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, ভুটানের পুনাতসাংচু নদীই সমতলে নেমে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সঙ্কোশ নামে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে ভুটানের পরিস্থিতির উপরও নিরন্তর নজর রাখছে ভারতীয় প্রশাসন। সব মিলিয়ে, পাহাড়ি ঢলের জেরে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় বড়সড় বন্যার আশঙ্কা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ।


Share