Property of IAS Officer

৪০টি ভিলা-কটেজ কেনা ঘিরে বিতর্ক, APO-তে রাজস্থানের বর্ষীয়ান আইএএস আধিকারিক শিখর আগরওয়াল

১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল রাজস্থানের প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি শিল্প দফতর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ছিলেন। পাশাপাশি, রাজস্থান স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন (RIICO)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুর
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৩

৪০টি ভিলা ও কটেজ কেনা এবং পরে সেই সম্পত্তিগুলি একই সংস্থাকে লিজ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন রাজস্থানের এক সিনিয়র আইএএস অফিসার। রাজস্থানের ওই সিনিয়র আইএএস আধিকারিকের নাম শিখর আগরওয়াল। বুধবার গভীর রাতে রাজ্য সরকারের কর্মিবর্গ দফতর তাঁকে APO (Awaiting Posting Orders)-তে রাখার নির্দেশ জারি করেছে। ‘প্রশাসনিক কারণ’ হিসেবেই দাবি করেছে রাজস্থান সরকার। যদিও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনও যোগসূত্রের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।

১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল রাজস্থানের প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি শিল্প দফতর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ছিলেন। পাশাপাশি, রাজস্থান স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন (RIICO)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও সামলেছিলেন শিখর।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিখর আগরওয়াল, তাঁর স্ত্রী প্রশাখা মাথুর, তাঁদের দুই ছেলে এবং শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে প্রায় আড়াই বছরে গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৪০টি সম্পত্তি কেনেন। এর মধ্যে উদয়পুরের বুজহদায় ২০টি কটেজ এবং আলওয়ারের আজবগড়ে ২০টি ভিলা রয়েছে। দাবি, সম্পত্তিগুলির ক্রয়মূল্য ছিল মোট ৬.১৬৫ কোটি টাকা। প্রশাখা মাথুর নিজেও আইপিএস অফিসার। 

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কেনার পর ওই সম্পত্তিগুলি একই সংস্থাকে লিজ দেওয়া হয়। প্রতি কটেজের বার্ষিক লিজের পরিমাণ ৪ লক্ষ টাকা এবং প্রতি ভিলার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে বছরে মোট লিজের অঙ্ক দাঁড়ায় ১.৮০ কোটি টাকা।

এদিকে, চলতি বছরের গত ২৭ মার্চ রাজস্থান সরকারের অর্থ দফতরের একটি নথি ঘিরেও প্রশ্ন ওঠে। ওই নথিতে আলওয়ারে গোয়েল ফ্যাশনসের হোটেল ও রিসর্ট প্রকল্পের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধার প্যাকেজের উল্লেখ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি, বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই প্যাকেজের কথা উল্লেখ করা হয়। এর আওতায় সংস্থাটি ১০ বছর ধরে রাজ্য সরকারকে জমা দেওয়া করের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ ভর্তুকি এবং একই সময়ের জন্য বিদ্যুৎ শুল্কে সম্পূর্ণ ছাড়-সহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে দাবি করা হয়। তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠ।

এই সুবিধা পেতে আজবগড়ের গাওয়ান্ড কুন্ডল গ্রামে প্রকল্পের জন্য ন্যূনতম ১১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ২৪১ জনের কর্মসংস্থানের শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২০২টি প্রত্যক্ষ ও ৩৯টি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের কথাও তাতে উল্লেখ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শিখর আগরওয়াল ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তি কেনার তথ্য বার্ষিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণীতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পত্তি কেনার তথ্য-সহ বিবরণী এবং আয়কর রিটার্নে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান মুখ্যসচিব ভি শ্রীনিবাসের কার্যকালের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে রাজস্থানের পরবর্তী মুখ্যসচিব কে হবেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে শিখর আগরওয়ালকে APO-তে পাঠানোর সিদ্ধান্ত তাঁর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং মুখ্যসচিব পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে সিনিয়র আইএএস অফিসারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।


Share