ED Raid

বিদ‍্যুৎ প্রকল্পের নামে ব‍্যাঙ্ক থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তছরুপের অভিযোগ, কলকাতা, হুগলি-সহ একাধিক জায়গায় চলছে ইডির তল্লাশি

ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে ২৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তছরুপের অভিযোগে কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে ফের তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি আধিকারিকরা।

ব‍্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় চলছে ইডির তল্লাশি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৯

ঝাড়খন্ডে বিদ‍্যুৎ প্রকল্প দেখিয়ে ব‍্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ। কলকাতা, হাওড়া, হুগলির একাধিক জায়গায় চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান। ঋণের টাকা কীভাবে ঘুর পথে পাচার করা হয়েছে। তার কিনারা করতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা।

ইডি সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের বিদ‍্যুৎ প্রকল্পের হবে বলে ব‍্যাঙ্ক থেকে ২৯০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। কিন্তু বিদ‍্যুৎ প্রকল্প হয়নি। কোহিনূর গ্রুপ এই ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু ঋণ না পরিশোধ করায় NCLT-তে মামলা হয়। কিন্তু সংস্থার সম্পত্তি বিক্রি করে মাত্র ৭ কোটি টাকা আসে। এর জেরে ব‍্যাঙ্ক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সেই ঘটনায় ইডি ইসিআইআর দায়ের করে মামলা রুজু করে। গত ৩ সেপ্টেম্বর সংস্থার কর্ণধার প্রশান্ত বোথরা এবং বিজয় বোথরার কলকাতার একাধিক ঠিকানায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল। ওই দিন মোট ১১টি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডির আধিকারিকেরা। তল্লাশিতে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিপুল নথি বাজেয়াপ্ত করে।

অভিযোগ, ঋণের টাকা নিয়ে বিদ‍্যুৎ প্রকল্প হয়নি। কিন্তু টাকা সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সেই টাকার কিছু অংশ ব‍্যক্তিগত খাতে খরচ হয়েছে। তার কোনও সঠিক কারণ ইডি পায়নি বলেই দাবি করেছিল।

ইডি সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হওয়া কাগজপত্র খতিয়ে দেখে আবার তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ইডির আধিকারিকেরা হুগলির উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে সুদীপ্ত ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চলছে। সুদীপ্ত কোহিনূর গ্রুপে চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুদীপ্ত ঘোষ জানান, “ইডি তদন্ত করছে। এতে দূর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তদন্তকারীরা তদন্তের অনুমতি নিয়ে এসেছেন। আমি সহযোগীতা করছি।“

এ ছাড়াও, ব‍্যঙ্ক প্রতারণা মামলায় লেকটাউনের দুটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চলছে। হাওড়ার শিবপুরে জিটি রোডের ওপরে শচীন জৈন নামে এক ব‍্যক্তির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, শচীনও কোহিনূর গ্রুপে চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ছিলেন। টাকা কীভাবে কোথায় পাচার করা হয়েছে তা জানতে চাইছে ইডির তদন্তকারীরা।


Share