Supreme Court ED Plea

আইপ‍্যক-কান্ডের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তভার কি নিতে চলেছে সিবিআই? শুনানির শেষে রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট

আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবিতে শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট।

আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির বাইরে ফাইল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৬

আইপ্যাকের দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কয়েক জন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। তা হলে কী ঘটনায় তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যেতে চলেছে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। তা শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার পরেই স্পষ্ট হবে।

বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। ইডি এবং তাদের আধিকারিকেরা এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। সিবিআইকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত জানানো হয়েছিল। এ দিন তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া প্রয়োজন কি না তা নিয়ে সওয়াল-জবাব শেষ হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নন। রাজ্য সরকারের দায়িত্বেও রয়েছে অন্য রাজনৈতিক দল। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে আগের মতো কোনও বাধা নেই। রাজ্য সরকার চাইলে নিজেই তদন্ত করতে পারে অথবা প্রয়োজন মনে করলে তদন্তভার সিবিআইকে দিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের আলাদা করে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কপিল সিব্বল।

অন্য দিকে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজুর পাল্টা যুক্তি, রাজ্য সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবাআইকে দিলে সেই সিদ্ধান্তের পিছনে অসৎ উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠতে পারে। সলিসিটর জেনারেলের আরও বক্তব্য, মামলায় বেশ কয়েক জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকেরা অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন— এমন আশঙ্কাও আদালতের কাছে প্রকাশ করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই মামলায় তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার বর্মা এবং দক্ষিণ কলকাতার তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায়কে পক্ষ করা হয়েছে। রাজীব কুমার বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। মনোজ বর্মা মুখ‍্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। অন‍্য দিকে, প্রিয়ব্রত রায় রাজ‍্য পুলিশের ট্রাফিকের সুপার পদে রয়েছেন।

কয়লা পাচারের টাকা তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাকের মাধ‍্যমে সাদা করার হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলার তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতা এবং তিন আইপিএস অফিসারকে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যান। তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ। তল্লাশির সময় তিনি কয়েকটি ফাইল নিয়ে চলে যান বলেও ইডি দাবি করেছে। এর ফলে তদন্ত ব্যাহত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

সেই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে ইডি। কিন্তু এজলাসে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের চরম বিশৃঙ্খলার কারণে শুনানি হয়নি। তার পরেই ইডি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেই ঘটনার তদন্তভার এখন কার হাতে যায় সেটাই দেখার।


Share