Digital Arrest Bank Liability

মোবাইল দেওয়ালে ছুড়লেই তো গ্রেফতারি শেষ!’ ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে ব্যাঙ্কের দায় নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবিত সংশোধিত KYC-র নির্দেশিকা খতিয়ে দেখতে চায় দেশের শীর্ষ আদালত

ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে সন্দেহজনক লেনদেন আটকে যাচাইয়ের প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের, ব্যাঙ্কের গাফিলতিতে টাকা খোয়া গেলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে শীর্ষ আদালত।

ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৬

ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে সাইবার প্রতারণা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকেরা। এই পরিস্থিতিতে প্রতারণা রুখতে ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা এবং গ্রাহকের টাকা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। ব্যাঙ্কের গাফিলতির কারণে গ্রাহকের টাকা খোয়া গেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি হয়। সেখানেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে কেউ যদি মনে করেন, মোবাইলের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা হলে তিনি কেমন মানুষ? মোবাইলটা দেওয়ালে ছুড়ে মারলেই তো গ্রেফতারি শেষ!”

আদালতে প্রবীণ আইনজীবী এন এস নাপ্পিনাই জানান, লাগাতার সচেতনতা প্রচার এবং আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও এই ধরনের প্রতারণা বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি এক মহিলা ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে আড়াই কোটি টাকা হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এত প্রচারের পরেও শিক্ষিত মানুষ কী ভাবে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছেন। জাল আদালতের নির্দেশের সত্যতা সরকারি আদালতের ওয়েবসাইটে যাচাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

আদালতের মনে করে, টাকা খোয়া যাওয়ার পরে রিপোর্ট তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রধান বিচারপতির কথায়, “রিপোর্ট তো ময়নাতদন্তের মতো। প্রতিরোধের ব্যবস্থা কোথায়?” গ্রাহকের স্বাভাবিক লেনদেনের ধরন জানা থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক অঙ্কের টাকা তোলা বা পাঠানোর চেষ্টা কেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছে বেঞ্চ।

আদালতের প্রস্তাব, সন্দেহজনক লেনদেন সাময়িক আটকে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করা হোক। প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশকে জানানোও প্রয়োজন। ব্যাঙ্কের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণ এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবিত সংশোধিত KYC নির্দেশিকা খতিয়ে দেখতে চায় দেশের শীর্ষ আদালত। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্দেশিকা প্রকাশ এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির তালিকাও জমা দিতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, চলতি বছরেও এই প্রতারণায় দেশের মানুষের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 


Share