Indranil Sen

পর্যটন দফতরের টেন্ডার দিতে হবে তিনটি কোম্পানিকেই! টাকা ঘুর পথে নেওয়া হয় নিজের অ‍্যাকাউন্টে, চিঠি দেওয়া হল ইউনেস্কোকে

তিনটি সংস্থার নাম— 3rd Creation, GIDI Creation এবং Rupa Creation। এই তিনটি কোম্পানি ১০০ কোটি টাকার বেশি টেন্ডার পেয়েছে।

গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০০

রাজ‍্যের তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা মাস আর্টের সঙ্গে ইউনেস্কো-র আদৌ কোনও চুক্তি হয়েছে কি না তা জানতে বিশ্বসংস্থাকে চিঠি দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে এখনও কোনও উত্তর আসেনি। পুলিশ সূত্রের খবর, ২০টি এমন অ‍্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে যেখানে দুর্গাপুজোর টিকিট জালিয়াতির টাকা সেখানে ঢুকেছে। অভিযোগ, সেই টাকা ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর মেয়ে এবং স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ পরিবার এবং বন্ধুদের অ‍্যাকাউন্ট ব‍্যবহার করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, মাস আর্ট নামে ওই সংস্থাটি ২০২১ সালে খোলা হয়। ২০২২ সাল থেকে রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিতে নথিভুক্ত হয়। দাবি, তখন থেকেই মাস আর্টের সঙ্গে ইউনেস্কো-র চুক্তি দেখানো হয়। ইন্দ্রনীলের মাস আর্ট সংস্থা চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। সেই কাগজের পরিমাণ এতোটাই বেশি যে তা পরীক্ষা করতে অনেকটাই সময় লাগবে বলে মনে করছে তাঁরা। তার আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনেস্কো-কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আদৌ কোনও চুক্তি হয়েছিল কি না তা জানাতে বলা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত লালবাজারের প্রশ্নের জবাব বিশ্বসংস্থার কাছ থেকে কোনও জবাব আসেনি বলেও লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে।

বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেই আবেদন খারিজ হলেও রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন মধুছন্দা সেন। তবে মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকায় তাঁকেও ডাকা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা নগর দায়রা আদালত ইন্দ্রনীলকে ১৩ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে হেফাজতে পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, ইডি বেশ কিছু তথ্য কলকাতা পুলিশকে দিয়েছে। তাতে আপাতত ২০টি অ‍্যাকাউন্টের কথা জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। এই অ‍্যাকাউন্টের মধ্যে ইন্দ্রনীলের নামেও বেশ কয়েকটি রয়েছে। তাঁর মেয়ে, স্ত্রী, পরিবারের কিছু সদস্য এবং বন্ধুদের অ‍্যাকাউন্ট রয়েছে। ৩৪ কোটি টাকার অভিযোগ থাকলেও প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

আবার, পর্যটন দফতরের টেন্ডার তিনটি সংস্থাকেই বারবার দেওয়া হত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তিনটি সংস্থার নাম— 3rd Creation, GIDI Creation এবং Rupa Creation। এই তিনটি কোম্পানি ১০০ কোটি টাকার বেশি টেন্ডার পেয়েছে।

অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি থেকে টাকা নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের অ‍্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। কিছু অর্থ নগদেও লেনদেন হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। কী কারণে টাকা নিতেন, বেতন হিসেবে নাকি অন্য কোনও কারণে, তা খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। তবে পর্যটন দফতরের কিছু আধিকারিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই সংস্থাগুলির সঙ্গে মাস আর্টের কী সম্পর্ক রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা ঘোরানোর জন‍্য ভুয়ো অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।


Share