Allegations on BJP Leader

রোগীর ডিসচার্জ ঘিরে বিতর্ক! রানাঘাট হাসপাতালে সুপারকে হুমকির অভিযোগ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে

সুপারকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগে রানাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হাসপাতালের পরিষেবা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা।

সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৬

হাসপাতালের সুপারের ঘরে ঢুকে তাঁকে হুমকি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম স্বপন ঘোষ। তিনি নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই রানাঘাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী। যদিও বিজেপি নেতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হাসপাতাল সুপারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে নমিতা বিশ্বাস নামে এক মহিলাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। অষ্টমীর দিন স্ট্রোক হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রোগীর ডিসচার্জ পেপারে তিনি প্রতিবন্ধী এবং নিজের হাতে সই করতে অক্ষম, এমন কথা লিখে দেওয়ার জন্য স্বপন ঘোষ সুপারকে অনুরোধ করেন। কিন্তু রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা না করে এ ধরনের তথ্য লিখে দেওয়া সম্ভব নয় বলে সুপার জানান। অভিযোগ, এরপরেই তাঁর ঘরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন ওই বিজেপি নেতা। তাঁর সঙ্গে আরও দু-একজন ছিলেন বলেও অভিযোগ। ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার।

অন্যদিকে, রোগীর পরিবারের অভিযোগ, অষ্টমীর দিন স্ট্রোকের কারণে নমিতা বিশ্বাসকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে এসেছিলেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দু'দিন চিকিৎসার পর তাঁকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবারের প্রশ্ন ছিল, ব্রেন স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যার পর মাত্র দু'দিনের মধ্যে কীভাবে রোগীকে ছুটি দেওয়া হচ্ছে? পরে তাঁকে পুনরায় ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয় বলেও পরিবারের তরফে দাবি উঠেছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা যথাযথ ছিল না। কখনও চিকিৎসকের দেখা মিলেছে। কখনও মেলেনি। প্রতিদিন আয়ার জন্য ৪০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। এমনকি ডিসচার্জ পেপারেও রোগীর চিকিৎসার বিস্তারিত ইতিহাস বা কেস হিস্ট্রি উল্লেখ ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাঁদের দেখভালের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসেছেন। পরিবারের দাবি, নমিতা বিশ্বাস অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পান। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথিতে চিকিৎসার ইতিহাস উল্লেখ না থাকায় সেই টাকা তোলার ক্ষেত্রে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁরা ডিসচার্জ পেপার সংশোধনের দাবিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

বিজেপি নেতা স্বপন ঘোষের দাবি, ওই মহিলার অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ভাতা যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই কারণেই তিনি সুপারকে প্রয়োজনীয় নথি সংশোধনের অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, দু'দিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এরপর সুপারের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি নিজের কাজ নয় বলে জানান। তা নিয়েই দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে সুপারকে কোনও গালিগালাজ বা হুমকি দেওয়া হয়নি বলে দাবি স্বপনের। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, হাসপাতালে একাধিক দুর্নীতি চলছে। সেই সমস্ত বিষয় প্রকাশ্যে আনা হবে। পাশাপাশি সুপারের ঘরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গোটা ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের বিষয়টি এখন রানাঘাট থানার পুলিশের নজরে।


Share