TMC Leader Mahua Moitra

আরও বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র! ‘ক্যাশ–ফর–কোয়েরি’ মামলায় চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দিতে সিবিআই অনুমতি দিল লোকপাল

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সর্বোচ্চ আদালত এখনও সেই মামলায় চূড়ান্ত রায় দেয়নি। তবে লোকসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে কৃষ্ণনগর আসন থেকে পুনরায় জয়ী হয়ে সংসদে ফিরে আসেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৩

লোকসভায় ‘ক্যাশ–ফর–কোয়েরি’ মামলায় আরও বিপাকে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।  তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের  চার্জশিট দিতে সিবিআইকে অনুমতি দিল লোকপাল। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সেই চার্জশিট দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে লোকপাল।

গত ১২ নভেম্বর লোকপালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লোকপালের নির্দেশে বলা হয়েছে, ”২০১৩ সালের আইনের ধারা ২০(৭)(এ) ও ধারা ২৩(১) অনুযায়ী, আমরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-কে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে হবে।” এর পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে চার্জশিট ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের একটি প্রতিলিপি রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে নির্দেশও দিয়েছে লোকপাল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম এই অভিযোগ তোলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর অভিযোগ, কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সংসদে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। সাংসদের সেই প্রশ্ন ঠিক করে দিয়েছিলেন দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানি। এর বিনিময়ে মহুয়া দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে নগদ টাকা, বিলাসবহুল উপহার এবং অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের আরও অভিযোগ, হীরানন্দনিকে নিজের লোকসভা ‘লগইন আইডি’ শেয়ার করেছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, এতে সংসদীয় ‘প্রোটোকল’ লঙ্ঘন করা হয়েছে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।

যদিও তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্বীকার করেন, যে তিনি তাঁর সংসদীয় আইডি দুবাই-ভিত্তিক ব‍্যবসায়ী হীরানন্দনিকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূল সাংসদের দাবি করেছিল, সংসদ সদস্যরা প্রায়ই তাঁদের সহকারীদের প্রশ্ন আপলোড করার জন্য সংসদ পোর্টালের আইডি ব্যবহার করতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই থেকে বসে দর্শন হীরানন্দানি তাঁর লোকসভা অ্যাকাউন্টে লগইন করে আদানিকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন আপলোড করতেন। এর বিনিময়ে তিনি মৈত্রকে নগদ ও বিভিন্ন উপহারের মাধ্যমে সুবিধা দিতেন।

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিজেপি নিশিকান্ত দুবে লোকসভা নীতি-আচরণ কমিটির কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। যেখানে একটি ‘হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট’ এবং হীরান্দানির তৈরি ৫৯টি সংসদীয় প্রশ্নের তালিকা যুক্ত ছিল। কমিটি ৬-০ ভোটে মৈত্রর বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক আচরণ’-এর অভিযোগে তাঁর বহিষ্কারের সুপারিশ করে। ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ মহুয়া লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হন।

দর্শন হীরানন্দানি পরে এই মামলায় স্বীকারোক্তিদাতা হিসেবে সামনে আসেন। জানান, তিনি সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘লগইন আইডি’ ব্যবহার করে সংসদ পোর্টালে প্রবেশ করতেন। তিনি আরও স্বীকার করেন, লোকসভায় মহুয়া মৈত্র বহু প্রশ্ন করেছিলেন, তার জন্য তিনি নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন দামী উপহার প্রদান করেছিলেন।

এর পরে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সর্বোচ্চ আদালত এখনও সেই মামলায় চূড়ান্ত রায় দেয়নি। তবে লোকসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে কৃষ্ণনগর আসন থেকে পুনরায় জয়ী হয়ে সংসদে ফিরে আসেন।

২০২৪ সালের মার্চে সিবিআই মহুয়া মৈত্র, দর্শন হীরানান্দানি এবং আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ৭, ৮ ও ১২ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা দায়ের হয়। সিবিআইয়ের তদন্তের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা পড়ে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মহুয়া মৈত্রর তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে নগদ টাকা, দামী উপহার এবং বিদেশ ভ্রমণ-সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন।


Share