Death of BLO

এসআইআর পর্বে বিএলও-র দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কাজের চাপে ভেঙে পড়ার অভিযোগ পরিবারের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিডিও অফিসের কয়েক জন কর্মীর কথায়, রীতিমত সেখানে তান্ডব চালানো হয়েছে। এইআরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনি জখম হয়েছেন। তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বেই সরকারি ভবনে ঢুকে এই ভাঙচুর চালানো হয় বলেই অভিযোগ ওই কর্মীদের।

প্রতীকী চিত্র।
অরুণিমা কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৩

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়।

এসআইআর-এর নামে ‘সাম্প্রদায়িক বিভাজনের’ চেষ্টা চলছে, এই অভিযোগ তুলে দলবল নিয়ে ফরাক্কা বিডিও অফিসে হামলা চালান তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম।

তৃণমূলের হামলার জেরে বন্ধ হয়ে যায় এসআইআরের শুনানি। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে  ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক জুনাইদ আহমেদ অভিযোগ দায়ের করেন। সরকারী কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বিডিও অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে প্রবেশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এসআইআরের নামে রাম আর রহিমের মধ্যে বিবাদ বাধানো হচ্ছে। কারও নাম রাম শুনলে কোনও নথি লাগছে না। রহিমের নাম শুনলেই চোদ্দো গুষ্টির খতিয়ান চাইছে নির্বাচন কমিশন।

তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “এই দ্বিচারিতা মানব না। ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয়, মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে।’’ এর পর মনিরুলের অনুগামীদের তরফে নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।

প্রত‍্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেই সময় বিধায়কের অনুগামীরা আচমকা বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা শুরু করে। লাথি মেরে উল্টে দেওয়া হয় প্লাস্টিকের আসবাব, বন্ধ করে দেওয়া হয় চলমান এসআইআর-এর শুনানি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিডিও অফিসের কয়েক জন কর্মীর কথায়, রীতিমত সেখানে তান্ডব চালানো হয়েছে। এইআরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনি জখম হয়েছেন। তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বেই সরকারি ভবনে ঢুকে এই ভাঙচুর চালানো হয় বলেই অভিযোগ ওই কর্মীদের।

এ দিন ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে বারবার নথিপত্র নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মানসিক চাপের প্রতিবাদে কয়েক জন বিএলও ওই কেন্দ্রের ইআরও-র কাছে গণ ইস্তফাপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘এসআইআর মানছি না, মানব না’ স্লোগান দিতে দিতে বিডিও অফিসে চড়াও হন। বিধায়কের দাবি, বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাইয়ে দ্বিচারিতা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে বাঁচাতেই তিনি আন্দোলনে নেমেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ঘটনার পরেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়। স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয় কমিশন। তারপরেই ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক জুনাইদ আহমেদ অভিযোগ দায়ের করেন। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত দু’জনের গ্রেফতারির খবর মিলেছে।

অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষকে বিভ্রান্ত করতে নাটক করছে তৃণমূল। বিডিও-রা বেশির ভাগ জায়গায় তৃণমূলের কথায় কাজ করছেন। সে দিক থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে নতুন নাটক শুরু করেছে তৃণমূল।’’


Share