RG Kar Case

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’, সন্দীপ ঘোষের বিচার প্রক্রিয়ায় সবুজ সংকেত, বিস্ফোরক বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নির্দেশিকার প্রতিলিপিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আরজি কর কাণ্ডে 'ন্যায়বিচার' নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি 'মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ'।

সন্দীপ ঘোষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১০:৫৫

আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত এবং আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য অবশেষে ইডিকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সাক্ষর করা নির্দেশিকার প্রতিলিপিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আরজি কর কাণ্ডে 'ন্যায়বিচার' নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি 'মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ'।

সরকারি কর্মচারী হওয়ায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে সেই অনুমতি ইডিকে দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন তদন্ত এগোলেও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ আটকে ছিল। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই সেই প্রশাসনিক অনুমোদন মঞ্জুর হওয়ায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে আর কোনও বাধা রইল না বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।

সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু লেখেন, ‘আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। গত ৯ অগস্ট, ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বোন অভয়ার নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন আরজি করের সুপার কুখ্যাত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী ইডিকে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি প্রদান করা হল। বিগত তৃণমূল সরকার জোরপূর্বক ও অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ দিন আটকে রেখেছিল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

প্রকাশিত নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যপাল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২০বি ও ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৭ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর আওতায়ও এই অভিযোগ তদন্তযোগ্য বলে উল্লেখ রয়েছে।

এই মামলায় সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি ‘মা তারা ট্রেডার্স’, ‘ইশান ক্যাফে’ এবং ‘খামা লোহা’-র নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাদের ভূমিকা থাকতে পারে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকার কপি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিব, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে, পানিহাটির সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক এবং নির্যাতিতার মা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার আবেদন জানিয়েছেন। যদিও এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছে সঞ্জয় রায়, তবুও নির্যাতিতার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তিনি একা নন, আরও কয়েকজন এতে যুক্ত ছিলেন।

নির্যাতিতার মৃতদেহ দ্রুত সৎকারের মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে উঠেছে বলে অভিযোগ।


Share