Land Scam

জয়ের কোম্পানি থেকে কেনা হয়েছিল বন্দুক, জমি দখল করতে ‘সন্ত্রাস’ চালাতেন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু

ইডি আদালতের কাছে দাবি করেছে, এই মামলার তদন্তে সোনা পাপ্পুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, শান্তনু সিংহ বিশ্বাস এবং জয় কামদারের সঙ্গে সোনা পাপ্পুকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

জমি দখল মামলায় ধৃত সোনা পাপ্পুকে হাজির করানো হল আদালতে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৪:২৫

বেআইনি ভাবে জমি দখল করতে জমির মালিকদের ওপরে কার্যত ‘সন্ত্রাস’ চালাতেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। সোমবার রাতে কসবার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। ইডির দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়িতে বন্দুক পাওয়া গিয়েছিল, তা তাঁর স্ত্রী-র নামে ছিল। অস্ত্র কেনার ১৫ দিনের মাথায় কাকুলিয়া রোডে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। যে বন্দুকটা কেনা হয়েছিল সেটাও জয় কামদারের কোম্পানি থেকে কেনা হয়েছিল।

মঙ্গলবার ইডি আদালতকে জানায়, বেআইনি জমি দখল মামলায় সোনা পাপ্পু সরাসরি অভিযুক্ত। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার জমি দখল সিন্ডিকেটে ত্রাস ছিল। নিরীহ জমি মালিকদের ওপরে ‘সন্ত্রাসের ঝড়’ চালিয়েছিল। তা করেই বিপুল পরিমানে জমি দখল করা হয়েছে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের থেকেই টাকা আদায় করত এই তৃণমূল কর্মী সোনা পাপ্পু। স্থানীয় সিন্ডিকেটই তাঁকে তোলার টাকা তুলে দিত।

ইডি সূত্রের খবর, নিজের পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার জমি কিনেছেন। কসবার একটি ১৮ কাঠা জমির দাম সাত কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। সেটাকে এক কোটি ১৯ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছে। যা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেকটাই কম। ভয় দেখিয়ে তা কার্যত দখল করা হয়েছে বলে ইডি দাবি করেছে। ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, ‘আমি (জমির মালিক) শুধু মামলা চালাই না, আমি এদের দ্বারা নিপীড়িত হয়েছি। 

এ দিন ইডি আদালতকে আরও জানিয়েছে, সোনা পাপ্পুর কোম্পানি এসবি কনস্ট্রাকশন-এ দু’কোটি ১৪ লক্ষ টাকা নগদ জমা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ ভাবে তৈরি কোম্পানি হোলি ভ‍্যালি কনস্ট্রাকশনে বিপুল নগদ জমা হয়েছে। ধৃতের ব‍্যাঙ্কের লেনদেন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, স্ত্রীর অ‍্যাকাউন্টেও এক কোটি টাকার বেশি নগদ জমা হয়েছে।

কসবার এই তৃণমূল কর্মীকে ইডি চার বার নোটিস পাঠিয়েছিল। এই মামলায় সোনা পাপ্পুর বয়ান রেকর্ড করার জন‍্য ইডির দফতরে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে আসেনি। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। সোনা পাপ্পুর জমি দখলের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ছিল। সিন্ডিকেটের সাথে মিশেই এই কাজ করত। জমি দখল করতে গিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। এফআইআরও হয়েছে। তা থেকে স্পষ্ট যে জমি দখলে প্রত্যক্ষ‍্য ভূমিকা সোনা পাপ্পুর রয়েছে বলেও আদালতকে জানিয়েছে ইডি।

ইডি আদালতের কাছে দাবি করেছে, এই মামলার তদন্তে সোনা পাপ্পুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, শান্তনু সিংহ বিশ্বাস এবং জয় কামদারের সঙ্গে সোনা পাপ্পুকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। দশ দিনের হেফাজত চাওয়া হয়েছে। বিচারক নির্দেশ রিজার্ভ রেখেছেন।


Share