Special Intensive Revision

‘এনআরসি করার উদ্দেশ্যে ঘুরপথে এসআইআর,’ শান্তিপুরে মাইকিং করছে বুথের বিএলও! সরানোর দাবিতে সরব হল বিরোধী দল বিজেপি

বিএলও প্রসেনজিৎ সাহাকে সরানোর দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। যদিও প্রসেনজিৎ সাহা জানান, তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও সরকারি দায়িত্ব আলাদা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কর্মীরাই যদি এর বিরোধিতা করেন, তবে আদৌ কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এই কাজ, উঠছে প্রশ্ন।

শান্তিপুরে এসআইআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও প্রসেনজিৎ সাহা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৭

এনআরসি করার উদ্দেশ্য, তাই ঘুরপথে করা হচ্ছে এসআইআর! রাস্তায় মাইকে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক নেতা মতো দিচ্ছেন ভাষণ। নদিয়ার শান্তিপুরে বিএলওর মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যদিও বিজেপির দাবি, তাঁকে অবিলম্বে বিএলও পদ থেকে সরানো হোক। যদিও ওই বিএলও দাবি করেছেন, কাজের ক্ষেত্রে তিনি রাজনীতি করেন না।

গত ২৭ অক্টোবর এসআইআর ঘোষণার পরে নদিয়ার শান্তিপুরের ঘটনা। বিএলওর নাম প্রসেনজিৎ সাহা। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে প্রসেনজিৎ সাহাকে শান্তিপুর বিধানসভার ১৯৬ নম্বর বুথের বিএলও পদে নিয়োগ করেছে কমিশন। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ সাহা বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জেলার রাজনীতির কারবারিদের কথায়, বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি দলীয় লাইনে কথা বলছেন।

প্রসেনজিৎ সাহার অভিযোগ, এসআইয়ের মাধ‍্যমে ঘুরপথে এনআরসি করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। তাঁর কথায়, মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন। অসমের নাগরিকত্ব আইনের সঙ্গে বিহারের এসআইআরের যোগসূত্র টেনেছেন ওই বিএলও। তিনি বলেছেন, “এসআইআর-কে ‘ঘোয়া তুলসী পাতা’ করে দেখানো হচ্ছে। এর মাধ‍্যমে ভোটার তালিকা শুদ্ধ হবে, তা নয়। এসআইআরের মাধ্যমে মানুষকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।” নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা বিএলও মাইক নিয়ে প্রচারের পরে কমিশনারের কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচিতেও নেতৃত্ব দেন সেদিন।

প্রসেনজিতের আরও অভিযোগ, “যাঁরা এখানকার বাসিন্দা যাঁদের বাবা ঠাকুরদাদা ভোট দিয়েছে, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাদীদের একটা স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। ভোটার দের সস্তা শ্রমিক বানানোর যে খেলা হচ্ছে তার আমরা বিরোধিতা করছি।”

বিএলওর এমন মন্তব্যের পরে কটাক্ষ করেছে জেলা বিজেপির নেতারা। বিজেপির কথায়, তাঁর কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের তথ্য নথিভুক্ত করা। তাঁদের দাবি, এ ভাবে তিনি প্রকাশ্য রাস্তায় বিরোধীতা করতে পারেন না। এই বিষয়ে নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ করের প্রশ্ন, “যে ব্যক্তি নিজেই এসআইআর বিরোধী, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কমিশনের কাজ করবেন?”

এই বিষয়ে ওই বিএলওকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে শান্তিপুরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সন্দীপ ঘোষ বলেন, “তিনি (প্রসেনজিৎ সাহা) একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। নির্দেশিকা মেনেই তাঁকে আমরা নিয়েছিলাম। ভোটার তালিকায় ম‍্যাপিংয়ের কাজটা ভালো করেছেন। বিএলওর কাজ শুরু করেছিলেন। সেই কাজে আমি কোনও অভিযোগ পাইনি। আমি ওঁর কাজে সন্তুষ্ট।” তবে বিএলও প্রসেনজিৎ সাহা ব‍্যক্তিগত ভাবে কী মতাদর্শে বিশ্বাসী, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি শান্তিপুরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ।

যদিও প্রসেনজিৎ সাহা জানান, তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও সরকারি দায়িত্ব আলাদা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কর্মীরাই যদি এর বিরোধিতা করেন, তবে আদৌ কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এই কাজ, উঠছে প্রশ্ন।


Share