Student admission application process canceled

নকল শংসাপত্র জমা দিয়ে কলেজে ভর্তির চেষ্টা ৪৫ বয়সী তৃণমূলের ছাত্রনেতার! চার ছাত্রের আবেদন বাতিলের নোটিশ ঘরে গোষ্ঠী কোন্দল

ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে ছয় জন ছাত্রের মার্কশিট নিয়ে সন্দেহের দানা বাদে। এরপর এই কলেজের তরফে উচ্চশিক্ষা দফতরে ওই মার্কশিটের বিভিন্ন বিবরণ দেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই উচ্চশিক্ষা দফতর জানিয়ে দেয় যে, ৬ ছাত্রের মার্কশিট এর মধ্যে চারজন ছাত্রের মার্কশিট সম্পূর্ণ অবৈধ।

শান্তিপুর কলেজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৫

নকল মার্কশিট দিয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন। চার জন ছাত্রর নাম বাতিল করল শান্তিপুর কলেজ। কলেজের সামনে নোটিশ দিয়ে সেই চার ছাত্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি। আর এই নোটিশ নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছাত্রদের একাংশের দাবি, তালিকাটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। দাবি, কলেজের এক শিক্ষক তৃণমূলপন্থী ছাত্রদের ওপর বিদ্বেষ থেকে এই কাজ করেছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করেছে কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদেরই একাংশের।

কয়েক মাস ধরে শান্তিপুর কলেজের প্রথম বর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছিল। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে ছয় জন ছাত্রের মার্কশিট নিয়ে সন্দেহের দানা বাদে। এরপর এই কলেজের তরফে উচ্চশিক্ষা দফতরে ওই মার্কশিটের বিভিন্ন বিবরণ দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, সেই প্রেক্ষিতেই উচ্চশিক্ষা দফতর জানিয়ে দেয় যে, ছ’জন ছাত্রের মার্কশিট এর মধ্যে চার জন ছাত্রের মার্কশিট সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’। এর পরেই ওই চার ছাত্রের নামে একটি নোটিশ কলেজ গেটের সামনে লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই নোটিশের বলা হয়, এই চার জন ছাত্র ‘অবৈধ রেজাল্ট’ দিয়ে ভর্তি হয়েছিল। সেই কারণে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করা হল।

এই চার ছাত্রের নাম সুকান্ত দাস, নয়ন মজুমদার, সাগর মল্লিক এবং রাজা পাল। সেই নোটিশ নজরে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক গোষ্ঠীর দাবি, এই নোটিশ কলেজ কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এ বিষয়ে শান্তিপুর কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি লালন শেখ বলেন, শান্তিপুর কলেজের তৃণমূল বিদ্বেষী ছাত্ররাই এই নোটিশটা সাঁটিয়েছে। এই নোটিশের কোন বৈধতা নেই এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নোটিশ দেয়নি। প্রয়োজনে আইনের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

‘অবৈধ’ রেজাল্ট জমা দিয়ে ভর্তির আবেদন করার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে, সেই রাজা পাল বলেন, “আমার রেজাল্টটি সম্পূর্ণ বৈধ। তবে কেন এ ধরনের নোটিশ টানানো হল তা সম্পূর্ণ কলেজ কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।”

যদিও তৃণমূলের অপরপক্ষের দাবি এই নোটিশটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি মামান শেখ বলেন, “দীর্ঘদিন পর কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি কীভাবে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে পারে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মামলা রয়েছে। আমরা আসল তৃণমূলটা করি। ওরা বিজেপি করে।” যদিও এ ব্যাপারে কলেজ কতৃপক্ষের থাকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


Share