Murder Case

সন্দেশখালিতে ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে মা-শিশুর আধপোড়া দেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিনের জার উদ্ধার হয়েছে। তবে সেটি অক্ষত ছিল। ফলে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দেশখালি
  • শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৪৯

উত্তর ২৪ পরগনার একটি বাড়ির দোতলায় রাখা ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে এক তরুণী মা ও তাঁর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যার আধপোড়া দেহ উদ্ধার হল। সন্দেশখালির মণিপুর এলাকায় রবিবার সকালে ঘটনার পরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২২ বছর। অভিযোগ, ট্রাঙ্কের ভিতরে মায়ের দেহ বসা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর পায়ের কাছেই শিশুকন্যার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিনের জারও উদ্ধার হয়েছে। যদিও সেটি অক্ষত অবস্থায় ছিল। পরিবার সূত্রে দাবি, শনিবার রাতে মৃতার স্বামী বিপ্লব মাইতি, তাঁর ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন। ওই সময় বিপ্লবের বাবা-মা সোনারপুরে গিয়েছিলেন। রবিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিপ্লব বিছানায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে দেখতে পাননি। তখনই খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। অবশেষে দোতলার বারান্দায় রাখা ট্রাঙ্কের ভিতর থেকেই মা ও মেয়ের দেহ উদ্ধার হয় বলে তিনি জানান। 

ঘটনার খবর পেয়ে সন্দেশখালি থানার পুলিশ ও বসিরহাট জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীকে আটক করা হয়েছে। দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। 

স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন। তাঁর কথায়, ট্রাঙ্কের ভিতরে বসা অবস্থায় মহিলার দেহ এবং পায়ের কাছে শিশুর দেহ দেখে তিনি স্তম্ভিত। পাশাপাশি একটি কেরোসিনের জারও সেখানে রাখা ছিল।

তবে এই ঘটনার স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের দাবি, আগুন লাগলে শরীরে তীব্র যন্ত্রণা হওয়ার কথা—সে অবস্থায় কেউ কীভাবে ট্রাঙ্কের ভিতরে বসে থাকতে পারেন? একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বাড়ির ভিতরে এমন ঘটনা ঘটল অথচ কেউ কীভাবে তা টের পেল না। মৃতার পরিবারের তরফেও ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি। পুরো ঘটনাই এখনও রহস্যে ঢাকা। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।


Share