Dead Body Recovery

ব্যারাকপুরে হৃদয়বিদারক ঘটনা, মৃত স্বামীর দেহের পাশে টানা ১০ দিন বসে স্ত্রী

ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ধূপ জ্বলছিল। প্রাথমিক অনুমান, মৃতদেহের দুর্গন্ধ চাপা দিতেই ধূপ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্যারাকপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১২:২৭

স্বামীর পচাগলা দেহের পাশেই প্রায় ১০ দিন কাটালেন স্ত্রী। ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী সেন্ট্রাল রোড এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। কয়েকদিন ধরে এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎস খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মঙ্গলবার সেই রহস্যের উৎঘাটন হলো। জট খুলতেই সামনে আসে এক হৃদয়বিদারক ছবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই বৃদ্ধ দম্পতি শক্তিপদ দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রী মনীষা দেবনাথকে বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বিশেষ গুরুত্ব দেননি। পরে বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। তাতেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঘরের ভিতরে ঢোকে। ভিতরের দৃশ্য দেখে সকলের চোখ কপালে ওঠে। ঘরের ভিতরে বছর পঁচাত্তরের শক্তিপদ দেবনাথের পচাগলা দেহ পড়ে ছিল। তাঁর নিথর দেহের পাশেই তাঁর স্ত্রী বসে ছিলেন। মনীষা দেবনাথ একজন প্রাক্তন শিক্ষিকা। তাঁর বয়স বছর পয়ষট্টি। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ধূপ জ্বলছিল। প্রাথমিক অনুমান, মৃতদেহের দুর্গন্ধ চাপা দিতেই ধূপ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, মনীষা দেবী প্রায় ১০ দিন ধরে স্বামীর দেহ নিয়ে ওই বাড়িতেই ছিলেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে বহুচর্চিত রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের কথা।

ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিবেশী পার্থ পোদ্দার জানান, প্রথমদিকে ধূপ বা সুগন্ধী জাতীয় কিছু ব্যবহার করার কারণে দুর্গন্ধ বাইরে তেমন বোঝা যায়নি। পরে গন্ধ বাড়তেই সন্দেহ হয়। তাঁর কথায়, “আমরাই পুলিশে খবর দিই। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে এই দৃশ্য দেখতে পায়। আমাদের মনে হচ্ছে মনীষাদেবীর মানসিকভাবে সমস্যা থাকতে পারে। প্রতিবেশী হিসেবে আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

 টিটাগড় থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করেছে। দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কীভাবে শক্তিপদ দেবনাথের মৃত্যু হয়েছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।


Share