Special Intensive Revision

বাদুড়িয়ায় ভোটার কার্ডে নাম ভুল, বিষ খেয়ে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, ‘এসআইআর আতঙ্কে’ বলছে তৃণমূল

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি। এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাদুড়িয়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৬:০৯

আবারও ‘এসআইআর-আতঙ্কে’ আত্মহত্যার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। সেখানে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যার করেছে বলে খবর। মৃতের পুত্র জানান, সরকারি নথিতে ভুল ছিল। তা দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ৫৭ বছরের শফিকুল মণ্ডল। এর পর থেকেই ভুল সংশোধন ক্রমাগত তাঁর দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। 

এসআইআর হলে নাকি দেশ ছাড়তে হবে এই ভয় তাকে নাজেহাল করে তুলেছিল বলেও দাবি করেছে পরিবার। এর জন্য তিনি গত কয়েক দিন ধরে কিছুই সেভাবে খাননি। তার পরেই নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন তিনি। বুধবার প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে বাদুড়িয়ার যদুরহাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিরোধী দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে শোরগোল। ঘটনার জন্য তৃণমূল দায়ী করেছে বিজেপিকে।

শফিকুলের পরিবারের দাবি, কয়েক পুরুষ ধরে তারা বাদুড়িয়া তথা রাজ‍্যে বসবাস করেছেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শফিকুল দ্বিতীয় বিয়েও করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয়পত্রে দেওয়া বয়স নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ওই বয়সের সঙ্গে প্রথম পক্ষের সন্তানদের বয়সের পার্থক্য খুব কম।

এ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, নথি ঠিক করার উপায় কী? কীভাবে তিনি ঠিক করবেন নথি? তা নিয়ে একাধিক লোকের সঙ্গে আলোচনা করেন। 

পরিবার সূত্রের খবর, মঙ্গলবার শফিকুল তাঁদের নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যান। বাড়ির একটু দূরে একটি নির্জন জায়গায় তিনি বিষ খান। স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। তাঁকে দ্রুত বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 

তাঁর ছেলের দাবি, গত ১৫ দিন ধরে বাবা নানা জায়গায় ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এর জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শফিকুল। এর পর গত কয়েক দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে যান প্রৌঢ়। পুত্র রুহুল আমিন মণ্ডলের কথায়, ‘‘গত পাঁচ-ছ’দিন খাওয়া-দাওয়া করেনি বাবা। অনেকেই বাবাকে বলে এ বার ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এ যেতে হবে। তার পর থেকেই উনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। আমরা বুঝিয়েও পারিনি।’’

মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের উদ্দেশ্যে রুহুল বলেন, ‘‘আমার বাবাকে তো আর পাব না। কিন্তু আর কারও সঙ্গে যেন এমন না হয়। তাই আপনারা চাইলে বাবার দেহ সামনে রেখে বিক্ষোভ-আন্দোলন করতে পারেন।’’ শাসকদলের শাসকদলের দাবি, ভয়–আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এতগুলো মৃত্যুর দায় তাদের। অন্যদিকে,স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত ভ্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়াচ্ছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের রাজনীতি।


Share