Murder Case

মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নাবালিকা খুনের রহস্য কিনারা, গ্রেফতার মাসতুতো দাদা-সহ তিন জন

তদন্তে উঠে এসেছে, গৌরব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন। সেই নেশার জেরে তাঁর বিপুল আর্থিক দেনা তৈরি হয়। অভিযোগ, সেই টাকা শোধ করার জন্যই তিনি দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চুরির পরিকল্পনা করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১২:২৬

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নাবালিকা খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেলডাঙা থানার অন্তর্গত হালালপুর গ্রামে ১৬ বছরের কিশোরীকে খুন করা হয়। মৃতের নাম করবী দে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তকারীরা রহস্যের কিনারা করল। মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে নিহত কিশোরীর মাসতুতো দাদা। নাম গৌরব নন্দী (২৮)। এছাড়াও বহরমপুরের নীলাদ্রি দাশ ওরফে বুম্বা এবং হালালপুরের প্রিয়ম পাল ওরফে বনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে করবীকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রাতেই দু'জন ধরা পড়ে। ধৃতদের নাম গৌরব ও নীলাদ্রি। রবিবার আরও একজনকে পুলিশ আটক করে। তাঁর নাম প্রিয়ম। গৌরব ও নীলাদ্রিকে মুর্শিদাবাদ সিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। প্রিয়মকেও সোমবার আদালতে হাজির করানো পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।

তদন্তে উঠে এসেছে, গৌরব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন। সেই নেশার জেরে তাঁর বিপুল আর্থিক দেনা তৈরি হয়। অভিযোগ, সেই টাকা শোধ করার জন্যই তিনি দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চুরির পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের দাবি, মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ার পর করবী বাড়িতেই থাকত। পরিবারের দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে গৌরবের ভালোই ধারণা ছিল। ঘটনার দিন করবীর মা বহরমপুরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগকেই কাজে লাগানো হয়। একটি অচেনা নম্বর থেকে করবীর দাদুকে ফোন করা হয়। তাঁকে জানানো হয়, অনলাইন গেমে পুরস্কার হিসেবে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। উদ্দেশ্য ছিল দাদু-দিদাকে বাড়ি থেকে বাইরে পাঠানো।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দাদু-দিদা ব্যাঙ্কে যায়। করবী বাড়িতেই থেকে যায়। এরপর গৌরব দুই সহযোগীকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে। আলমারি থেকে সোনার গয়না চুরি করার চেষ্টা করে। সেই সময় করবী বিষয়টি সকলকে জানিয়ে দেওয়ার করা বলে। সে প্রতিবেশীদের ডাকতে যায়। তখন ধরা পড়ার ভয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। পরে ঘরের মধ্যেই দেহ ফেলে রেখে সোনার গয়না নিয়ে তিনজন পালিয়ে যায়।

তদন্তকারীদের দাবি, চুরি করা গয়না গৌরব তাঁর দুই বন্ধুর হাতে তুলে দেন। যাতে সেই সম্পত্তি বিক্রি করে অনলাইন গেমের দেনা মেটানো যায়।

এ দিকে দুপুরে করবীর ছোট ভাই বাড়িতে ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় দিদিকে পড়ে থাকতে দেখে। মাকে ফোন করে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ করবীর মা মাধবী দে বাড়িতে ফেরেন। মেয়ের দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বেলডাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তদন্তের সময় করবীর দাদু পুলিশকে জানান, ব্যাঙ্কে গিয়ে তিনি জানতে পারেন পুরস্কারের টাকা পাওয়ার ফোনটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল। সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করে।

করবীর মা মাধবী দে জানান, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন। ঘটনার পর প্রথমে তাঁর সন্দেহ ছিল মেয়ের পরিচিত এক যুবকের উপর। পরে জানতে পারেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই বোনপো। সেই সত্য মেনে নিতে এখনও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।


Share