Taratola Incident

‘আমি কিছু জানি না’, তারাতলা কান্ডে তদন্তে সহযোগিতাই করছে না ধৃত কালী! বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার বেশ কিছু খাতা, জানাল লালবাজার

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেক শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তার পরে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি এই মুহূর্তে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

তারাতলার গুদাম বিপর্যয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১০:৪৮

আমি কিছু জানি না। কিছুই বলতে পারব না। তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। সেই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিশেষ তদন্তকারীদের কালী এমনটাই বারবার বলছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের তিনি সহযোগিতা করছেন বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশির সময় দুটি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন সিটের তদন্তকারীরা।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেক শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তার পরে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি এই মুহূর্তে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। কয়েক দিন আগে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাওড়ার বাড়িতে সিটের সদস্যরা তল্লাশি চালায়। জানা গিয়েছে, সেখান থেকে দু’টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই নথিপত্র খাতার মতো। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই গুদাম সংক্রান্ত প্ল‍্যান পাশ করাতে তাঁর কী ভূমিকা রয়েছে তা নিয়ে পুলিশ বারবার প্রশ্ন করে। সেই নথি পাশ করানোর নির্দেশ তিনি কাকে কী ভাবে দিয়েছিলেন তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনও ভাবেই তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। বারবার বলছেন, “আমি জানি না। আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।” তবে তাঁর বাড়ি থেকে পাওয়া নথিপত্রে কী আছে তা খতিয়ে দেখার কাজ চালাচ্ছেন বলে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

এর পাশাপাশি বহেরা ব্রাদার্সের দফতরেও পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তাঁরা সেখান থেকেও বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। ওই সংস্থাটি অয়ন ট্রেডার্সের সঙ্গে গুদাম নির্মাণের জন‍্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। কতদিনের মধ্যে সেই কাজ শেষ করতে হবে, কীভাবে হবে, কত টাকার চুক্তি হয়েছিল তা জানতে চাইছে সিট। ওই সংস্থার দফতর থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্রে সেই চুক্তি রয়েছে কি না তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় ওই অয়ন ট্রেডার্সের ঠিকাদার আসগর হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলেও পুলিশ মনে করছে।

তারাতলার গুদাম সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে লালবাজা। তা এখনও তদন্তকারীদের হাতে পৌঁছোয়নি। পুলিশ সূত্রের খবর, প্ল‍্যান, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। যদিও সেই নথি বৈধ কি না তা তা পেতে টাকার লেনদেন হয়েছে কি না তা-ই মূলত জানতে চাইছে সিট। বহেরা ব্রাদার্সের কর্ণধার শম্ভুনাথ বহেরাকে ঘটনার দিনই আলিপুর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনিও বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। শম্ভুনাথ বহেরাও তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন।

কোনও বড় নির্মাণ হওয়ার আগে মাটি পরীক্ষা করতে হয়। ওই জমিটা লিজ নেওয়া হয়েছিল। তাতে নির্মাণকাজ করছিল বহেরা ব্রাদার্স। সেখানে মাটির পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না তা জানতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায় পোর্টের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদৌ সেই জমিতে এত বড় নির্মাণ করা যায় কি না ওই রিপোর্ট হাতে পেলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ মনে করছে।

এখনও এই ঘটনায় পর্যন্ত মোট পাঁচ জনকে জেরা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুরসভার এক আধিকারিক রয়েছেন। তিনি লাইন্সেস দফতরে কাজ করেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের নির্দিষ্ট ধারায় বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ধৃত দালাল ত্রুটিপূর্ণ প্ল‍্যান পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিল। কিন্তু ওই প্রকল্পের প্ল‍্যান পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দিষ্ট ভাবে জন‍্য কত টাকা নিয়েছিল, তা নিয়েও কিছু বলতে চাইছে না বলেই দাবি করা হয়েছে।


Share