TMC Political Crisis

শহিদ তুমি কার! ২১ জুলাইয়ে ধর্মতলার মঞ্চের দখল কার হাতে থাকবে, কালীঘাট বনাম ঋতব্রতের লড়াই তুঙ্গে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নামে 'আসল' তৃণমূল।

২১ জুলাই এর ধর্মতলার মঞ্চের দখল নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রতের লড়াই।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৫:২৭

২১ জুলাই শহিদ দিবসকে ঘিরে শুরু হয়েছে 'দড়ি টানাটানি' প্রতিযোগীতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নামে 'আসল' তৃণমূল। শনিবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলও একই দিনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয়। অন্য দিকে, ৩৩ বছর আগে তৎকালীন বাম সরকারের গুলিতে নিহত যুব কংগ্রেস কর্মীদের স্মৃতিকে নিজেদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে তুলে ধরে এ বছর শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসও। ফলে ঐতিহাসিক ২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে ত্রিমুখী টানাপোড়েন।

মমতাপন্থীদের কটাক্ষ করে 'আসল' তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘যারা বিধানসভায় পরিষদীয় দলই গঠন করতে পারে না, সংখ্যাই নেই, তারা আবার কী ২১ জুলাই পালন করবে? আমরা ওই দিনটি শহিদ পরিবারগুলিকে এনে পালন করতে চাই। এতদিন নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে আসল শহিদ পরিবারই হারিয়ে যেত। এবার শহিদ দিবসে আমরা তাঁদের প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে চাই।'' শনিবার তপসিয়ার একটি হোটেলে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক করেন ঋতব্রতপন্থীরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলর। বৈঠক শেষে আখরুজ্জামান জানান, ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে তাঁরা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। এ দিন বিকেলেই একই দাবিতে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বও।

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং দল কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, এ বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস আদৌ কীভাবে পালিত হবে, আর কারা তার আয়োজন করবে? এরই মধ্যে জাতীয় কংগ্রেস শহিদ মিনারে জাঁকজমক করে দিনটি পালনের ঘোষণা করেছে।

অন্য দিকে, কয়েক দিন আগে উত্তর কলকাতার এক কর্মিসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, পাঁচজন কর্মী-সমর্থক নিয়েও হলেও ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালন করবেন। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে আইনি অনিশ্চয়তা। ধর্মতলায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা বন্ধ রেখে শহিদ দিবস পালনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলছে, ফলে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।

এই পরিস্থিতিতে নজর এখন পুলিশের সিদ্ধান্ত ও আদালতের অবস্থানের দিকে। শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে ঋতব্রতপন্থীরা ২১ জুলাই পালনের অনুমতি পাবে, নাকি কংগ্রেসের শহিদ মিনারের কর্মসূচিই এ বারের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে সেটাই এখন দেখার।


Share