TMC Political Crisis

ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তুলেছেন! ব্যবসায়ীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল

শামস ইকবাল কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। ওই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন বলেই দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মহম্মদ শাদাব বলেন এক ব‍্যক্তি গার্ডেনরিচ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

(বাঁ দিক থেকে) ফিরহাদ হাকিম এবং শামস ইকবাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১১:৩৬

ব‍্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের করে গ্রেফতার হলেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শামস ইকবাল। তাঁকে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ। একাধিক মিটিং মিছিলে তাঁকে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, শামস ইকবাল ও তাঁর দলবল মিলে এক ব‍্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন।

শামস ইকবাল কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। ওই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন বলেই দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মহম্মদ শাদাব বলেন এক ব‍্যক্তি গার্ডেনরিচ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শাদাবের অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল ও তাঁর দলবল তাঁর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই এলাকায় নির্বিঘ্নে ব‍্যবসা করতে হলে টাকা নিয়মিত দিতে হবে। না দিলে ওই ব‍্যবসায়ীকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। নির্বিঘ্নে ব‍্যবসা চালাতে তিনি শামস ইকবালকে ধাপে ধাপে মোট ৭০ লক্ষ টাকা দেন। অভিযোগকারীর এ-ও দাবি, এত দিন তিনি ভয়ে পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও তাঁকে পিস্তল দেখিয়ে আরও টাকা ওই তৃণমূল নেতারা তুলে নিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

ব‍্যাবসায়ীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শামস ইকবাল, মহম্মদ ফারাজ ওরফে বুন, ফিরোজ কুরেশি ওরফে চুরি ফিরোজ-সহ একাধিক জনের নামে মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ভয় দেখানো, প্রতারণা, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার রাতে শামস ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ শামসকে হেফাজতে চাইতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

গার্ডেনরিচের ওই এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এই শামস ইকবাল। এলাকার ব‍্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, তাঁর অঙ্গুলীহেলন ছাড়া এলাকায় কোনও কাজ হবে না। গার্ডেনরিচ এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বহুতলের প্ল‍্যানও শামসের মাধ্যমে প্রোমোটারেরা পেয়ে যায় বলে দাবি করেছে কেউ কেউ।

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে একাধিক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। অধিকাংশের বিরুদ্ধেই তোলাবাজি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। যাঁরা এত দিন তৃণমূলের দাপটের কারনে মুখ খুলতে পারেননি, তাঁরা এখন থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করছেন।


Share