Shams Iqbal

ফিরহাদকে ‘ববি আঙ্কেল’ বলে ডাকেন, অস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার ছ’ঘন্টার মধ‍্যেই জামিন পেয়ে বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল নেতা শামস ইকবাল

সোমবার ভোরের দিকে তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ছ’ঘন্টার মধ্যেই জামিন নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল।

ফিরহাদ হাকিম ও শামস ইকবাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৫:৪৩

প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ‘ববি আঙ্কেল‍’ বলে ডাকতেন। সোমবার ভোরের দিকে তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ছ’ঘন্টার মধ্যেই জামিন নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল। তাঁকে এক হাজার টাকার ব‍্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে।

শামস ইকবাল কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ড তথা বন্দর এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। ওই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন বলেই দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মহম্মদ শাদাব বলেন এক ব‍্যক্তি গার্ডেনরিচ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শাদাবের অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল ও তাঁর দলবল তাঁর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই এলাকায় নির্বিঘ্নে ব‍্যবসা করতে হলে টাকা নিয়মিত দিতে হবে। না দিলে ওই ব‍্যবসায়ীকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। নির্বিঘ্নে ব‍্যবসা চালাতে তিনি শামস ইকবালকে ধাপে ধাপে মোট ৭০ লক্ষ টাকা দেন। অভিযোগকারীর এ-ও দাবি, এত দিন তিনি ভয়ে পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও তাঁকে পিস্তল দেখিয়ে আরও টাকা ওই তৃণমূল নেতারা তুলে বলেও দাবি করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শামসকে সোমবার ভোরে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ছ’ঘন্টার মধ্যেই তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেলেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।

ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শামস ইকবাল। তাঁকে ‘ববি আঙ্কেল’ বলেও ডাকেন তিনি। ফিরহাদের পরিবারের সঙ্গে একাধিক ছবি শামসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রয়েছে। টলিউড বা বলিউড একাধিক নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গেও তাঁর ছবি রয়েছে। একবার কলকাতা পুরসভায় কোটি টাকা মূল্যের অ‍্যাস্টন মার্টিন গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। তা দেখতে তৃণমূলেরই কাউন্সিলরেরাই দেখতে এগিয়ে এসেছিলেন।

২০২১ সালের কলকাতা পুরভোটে ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভোটে জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বহুতলটি ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেই ছিল। সেই ঘটনায় বহুতলের প্রোমোটার ওয়াসিমের সঙ্গে শামসের ছবি ভাইরাল হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই এলাকায় যত বহুতল হয়েছে, তার অনুমোদন নিতে গেলে শামসের মদতের প্রয়োজন হয়। ‘বেতাজ বাদশা’-কে গার্ডেনরিচের ধটনা থেকে আঢাল করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সম্প্রতি, তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ভারতীয় মজদুর সমিতির এক নেতা তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও কোনও পদক্ষেপ বা এফআইআর হয়নি।

শামসের বাবা মুন্না ইকবালও ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। গার্ডেনরিচ এলাকায় সাব-ইন্সপেক্টরকে হত‍্যার মামলায় মুন্না ইকবালের নাম জড়িয়েছিল। এ ছাড়াও, ওই এলাকায় জমি দখল, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়া, বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ শামসের বিরুদ্ধে রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে ডেপুটি কমিশনার (বন্দর)-এর কাছে ছ’কাঠা জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

২০২১ সালের পুরভোটের সময় শামস ইকবাল যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭৬ টাকা ছিল। তাঁর স্ত্রীর নামে ছিল ৭৫ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি। ৪৭ লক্ষ টাকা দিয়ে শাম্‌সের স্ত্রী একটি মার্সিডিজ় গাড়িও কিনেছিলেন ২০১৭ সালে। হলফনামায় তার উল্লেখ রয়েছে।


Share