Mob Lynching

তৃণমূলের মিছিল থেকে ধান বিক্রেতাকে পিটিয়ে খুন! ২৯ বছর পরে দোষী সাব্যস্ত ১৬ জনকে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল নিম্ন আদালত

জানা গিয়েছে, সেই মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে ভরতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে মামলার চার অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। রইল বাকি ২২ জন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনকে কান্দি মহকুমা আদালত বেকসুর খালাস করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৪

তৃণমূলের মিছিল থেকে ধান বিক্রেতাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১৬ জনকে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা আদালত। ২৯ বছর পরে মৃতের পরিবার বিচার পেল। ওই ১৬ জনকে দু’হাজার টাকা করে জরিমানা দিতেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে।

১৯৯৮ সালে ঘটনা। ভরতপুর থানার এলাকার মুন্সিপুর গ্রামে কলিমুদ্দিন খান এবং আসারউদ্দিন শেখ ধান বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুই বন্ধু বন্ধু ছিলেন। সেই সময় এলাকায় একটি তৃণমূলের মিছিল যাচ্ছিল। অভিযোগ, মিছিলের মধ্যে পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গোলমালের সূত্রপাত হয়। এরপর ওই দু’জনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

জানা গিয়েছে, সেই মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে ভরতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে মামলার চার অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। রইল বাকি ২২ জন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনকে কান্দি মহকুমা আদালত বেকসুর খালাস করেছে। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় শেষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সোমবার তাঁদেরকেই সাজা ঘোষণা করল কান্দি মহকুমা আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জন হল— শুকুর শেখ, সোরাব শেখ, জাইগর শেখ, মাসুদ শেখ, হালিম শেখ, বাবুল শেখ, কাদের শেখ, আলাউদ্দিন শেখ, বন্দাল শেখ, বক্স শেখ, শেরা শেখ, নিকাই শেখ, বকাই শেখ, রিপন, রেজাউল শেখ এবং আলি হোসেন। আদালতের নির্দেশ, নির্দেশিকা আসার পর থেকে ১৬ জন দু’বছর সশ্রম কারাদণ্ডের মধ‍্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি এই ১৬ জনকে দু’হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। দোষীর চাইলে নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যেতে পারবে।

তবে ২৯ বছর পরের পুরানো মামলায় রায় আসার পরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মৃত কলিমুদ্দিন খাঁ ও আশারউদ্দিন শেখের পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার অবসান হয়েছে। আদালতের রায়ে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৮ সালের সেই ঘটনার পর প্রায় তিন দশক কেটে গিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের রায় সামনে আসায় মুন্সিপুরের পুরনো ঘটনা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।


Share