Food Poision

হস্টেলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৪৪ ছাত্রী! খাবারে মাদক মেশানোর অভিযোগ, আটক রাঁধুনি

বহরমপুরের কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী। অসুস্থদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৪

হস্টেলের রাতের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লেন অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী। খাবারে মাদক মেশানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে। অসুস্থ ছাত্রীদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে হস্টেলের এক রাঁধুনিকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে এতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই শনিবার রাতে হস্টেলের খাবার খেয়েছিলেন ছাত্রীরা। কিন্তু খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝে হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

ছাত্রীদের দাবি, রাতের খাবারে মাদকজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার পরেই তাঁদের শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বমি বা অন্য কোনও উপসর্গ না থাকলেও অনেকেই নেশাগ্রস্তের মতো আচরণ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই হস্টেল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

এদিকে, হস্টেলের রান্নাঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে অভিযুক্ত রাঁধুনিকে কোনও কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্রীদের আরও দাবি, হস্টেলে তৈরি পনিরের তরকারি তাঁরা খেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের দুই সহপাঠী, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাঁধুনি ওই খাবার খাননি। ফলে তাঁদের কারও শরীরেই অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, যাঁরা ওই খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি ছাত্রীদের।

ঘটনার পর বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হস্টেলের ছাত্রীরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আটক রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খাবারে আদৌ কোনও মাদক মেশানো হয়েছিল কি না এবং কী কারণে এতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।


Share