Memory of Left Rule Returns

বাম আমলের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি!শাসকদলের হুমকির অভিযোগে বন্ধ ‘অসহায় পশ্চিমবঙ্গ’

পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদায় শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেল নাটক ‘অসহায় পশ্চিমবঙ্গ’-এর শো। নাট্য পরিচালক কৌশিক অধিকারীর অভিযোগ, শাসকদলের হুমকিতেই মেলা কর্তৃপক্ষ শো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫

বাম আমলের স্মৃতি কি ফিরিয়ে আনল বর্তমান পরিস্থিতি? শাসকদলের চাপেই ফের বন্ধ হয়ে গেল একটি নাটকের শো—এমন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত মারিশদা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। 

জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ জানুয়ারি মারিশদার ধান্দালিবাড় গ্রামে গঙ্গামেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই মেলাতেই একটি নাটকের শো নির্ধারিত ছিল। নাটকটির নাম ‘অসহায় পশ্চিমবঙ্গ’। নাটকটি প্রযোজনা করেছে নাট্যদল ‘রঙ্গ অপেরা’। এই দলের নির্দেশক হলেন নাট্য পরিচালক কৌশিক অধিকারী। মেলায় ওই নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই নাটকের শো করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শাসকদলের হুমকি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাট্য পরিচালক কৌশিক অধিকারী। তাঁর দাবি, “বাম আমলে যেভাবে তৎকালীন সিপিএম সরকার হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষের নাটক ‘পশু খামার’-এর শো বন্ধ করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এ বার তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের নাটক বন্ধ করে দিল।”

তিনি আরও বলেন, “শাসকদলের তরফে মেলা কমিটিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়, এই নাটক করা যাবে না। নাটক হলে বাইরে থেকে লোক এনে গোলমাল করা হবে এমনও বলা হয়েছে। আমাদের দলের শিল্পীদের নিয়ে রাতে ফিরতে হত, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই মেলা কমিটি আপাতত শো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।”

নাটকটির বিষয়বস্তু নিয়েও মুখ খোলেন কৌশিক। তাঁর বক্তব্য, “‘অসহায় পশ্চিমবঙ্গ’ একটি মুখোশ খোলার নাটক। এই নাটক হাজার হাজার বেকার যুবকের যন্ত্রণা তুলে ধরে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার ছবি এই নাটকে ফুটে উঠেছে। মাত্র কয়েকটি শো হতেই শাসকদলের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। তবে ‘অসহায় পশ্চিমবঙ্গ’-কে থামানো যাবে না।” 

যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের দাবি, নাটক বন্ধের সঙ্গে শাসকদলের কোনও ভূমিকা নেই, এটি সম্পূর্ণ মেলা কমিটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। নাটক বন্ধের এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে।


Share