Mob Lynching

গুজবের জেরে গণপিটুনি! ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে প্রাণ গেল কেশিয়াড়ির ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপের

গুরুতর জখম অবস্থায় ১১ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ গণপিটুনির, যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি এটি দুর্ঘটনা। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৮

ঝাড়গ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়া এক গুজবের জেরে প্রাণ গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের। মৃতের নাম সৌম্যদীপ চন্দ (৩৩)। পরিবারের অভিযোগ, তিনি চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। প্রায় ১১ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার গভীর রাতে প্রাণ হারান।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় লোকমুখে ও সমাজমাধ্যমে রটতে শুরু করে—রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন বাড়ির দরজায় কড়া নেড়ে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড দেখতে চাইছে। দরজা খুললেই নাকি লুটপাট চালানো হচ্ছে। এই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলায়। আতঙ্কে বহু গ্রামে শুরু হয় রাতপাহারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে পুলিশও।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রাতে সৌম্যদীপ নিজের কর্মস্থল খড়্গপুরে নাইট ডিউটিতে যাচ্ছিলেন। তিনি কেশিয়াড়ির গিলেগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকার ভেটিয়া সংলগ্ন আনরকলি এলাকায় চোর সন্দেহে কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিন রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওড়িশার ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

পরিবারের দাবি, মারধরের জেরে সৌম্যদীপের স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। সৌম্যদীপের কাকা, পেশায় হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসক রিন্টু চন্দ বলেন, “এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। রটনার বশবর্তী হয়ে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হোক। যেভাবে মারধর করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত নির্মম।” পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিনই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

অন্য দিকে, ভেটিয়া এলাকার কিছু বাসিন্দার বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, সৌম্যদীপকে মারধর করা হয়নি। তাঁকে থামতে বলা হলে তিনি দ্রুতগতিতে বাইক চালাতে যান। তাতেই তিনি পড়ে যান। তাতেই আঘাত পান। পরে স্থানীয়রাই তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর পর জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” গুজব কীভাবে একটি তরুণ প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, সৌম্যদীপের মৃত্যু সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিল।


Share