Elephant Control

মানুষ–হাতি সংঘাত কমাতে ২.৩৫ কোটি বিনিয়োগ, ঝাড়গ্রামে হাতির স্থায়ী আবাস গড়তে বন দফতরের বড় পদক্ষেপ

ঝাড়গ্রাম জেলার গিধনী রেঞ্জে মানুষ–হাতি সংঘাত কমাতে বন দফতর ১৬টি পুকুর খনন, ৯০ হেক্টরে ফলগাছ ও শালবন বিস্তার-সহ একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা।

পরিদর্শনে আধিকারিকরা
নিজস্ব সংবাদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৫

বার বার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে হাতি। আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলে হাতিদের স্থায়ী আবাস গড়ে তুলতে বন দফতর একাধিক পদক্ষেপ নিল বন। লক্ষ্য একটাই—খাবার ও জলের অভাবে যাতে হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে না পড়ে। মানুষ–হাতির সংঘাত যাতে কমে।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গিধনী রেঞ্জে গত দু’বছরে ১৬টি পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ঘাস রোপণ করা হয়েছে।  ৯০ হেক্টর এলাকাজুড়ে ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। একই পরিমাণ জমিতে বাড়ানো হয়েছে শাল জঙ্গলের বিস্তার। পাশাপাশি জল ও মাটি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২৮০ হেক্টর এলাকায় ট্রেঞ্চ কাটা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।

রবিবার বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা এই সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) এস কুনালদাইভেল, বিভাগীয় বন আধিকারিক উমর ইমাম, মণীশ যাদব, শিবানন্দ রাম-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। গিধনী রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ২৪টি বন সুরক্ষা কমিটির হাতে ১ কোটি ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার লভ্যাংশের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। এরপর তিনি কানাইশোল ও আমতলিয়া বিটের ডুমুরিয়া, বড়শোল, আমতলিয়া, চাঁদুয়া ও কেশিয়া এলাকায় খনন করা পুকুরগুলির উদ্বোধন করেন। বড়রাজগ্রামে নতুন পুকুর খননের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পলাশবনিতে হাতির খাদ্যের জন্য তৈরি আম, কাঁঠাল, কাজু, চালতা ও বেল গাছের বাগানও তিনি পরিদর্শন করেন।

বন দফতর জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড় থেকে হাতির দল এক সময় বেলপাহাড়ি হয়ে ঝাড়গ্রামে প্রবেশ করত। সেখান থেকে লালগড় ও কংসাবতী নদী পেরিয়ে মেদিনীপুরের দিকে যেত তাদের যাত্রাপথ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হাতিরা রুট পরিবর্তন করেছে। এখন ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া হয়ে গিধনী রেঞ্জের আমতলিয়া ও কানাইশোল বিট দিয়ে জেলায় তারা ঢুকছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে বন দফতর হাতিদের জন্য জঙ্গলের মধ্যেই পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করে তাদের বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে আমতলিয়া এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ সারা বছরই সেখানে হাতির আনাগোনা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাবারের অভাবে হাতির দল মাঝেমধ্যে গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। বনকর্মীরা তাড়ালেও আবার ফিরে আসে। জঙ্গলের মধ্যেই খাবার ও জলের স্থায়ী ব্যবস্থা হলে লোকালয়ে হাতির প্রবেশ কমবে বলেই আশাবাদী গ্রামবাসীরা। বন দফতরের এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। মুখ্য বনপাল এস কুনালদাইভেল জানান, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে হাতির আবাস উন্নয়নে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জলাধার নির্মাণ ও ফলদ গাছ রোপণের মতো কাজ চলছে জোরকদমে। 

বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, মানুষ–হাতি সংঘাত কমাতে দফতর নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে দক্ষিণবঙ্গের হাতিপ্রবণ জেলাগুলিতেও উপযুক্ত বনপরিবেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি জঙ্গল রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, প্রকল্প উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গিধনীর জঙ্গলে হাতির জন্য লাগানো কলাগাছ ভেঙে খেতে দেখা যায় একটি দাঁতালকে—যা এই উদ্যোগের বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকেই যেন সামনে তুলে ধরে।


Share