Howrah Municipality

হাওড়া পুরভোটের জট কাটাতে বিধানসভায় সংশোধনী বিল, ৫০ থেকে বেড়ে ৬৬ ওয়ার্ডের প্রস্তাব

বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধনী বিলে হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ৬৬টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি বিধানসভায় অনুমোদিত হলে তা রাজ্যপালের কাছে যাবে।

হাওড়া পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২২

শনিবার বিধানসভার অধিবেশন শেষ হচ্ছে। সেই দিন হাওড়া পুরসভার ভোট সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনতে চলেছে। শুক্রবার অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শেষ দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পেশ করা হবে। বিলটি পাশ হলে তা রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাজ্যপালের স্বাক্ষর মিললেই হাওড়া পুরভোটের পথে আর বাধা থাকবে না বলেই মনে করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের একাংশ।

বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধনী বিলে হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ৬৬টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি বিধানসভায় অনুমোদিত হলে তা রাজ্যপালের কাছে যাবে। তাঁর সম্মতি মিললেই দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটবে বলে দাবি শাসকদলের। ২০১৮ সাল থেকে আইনি জটিলতার কারণে হাওড়া পুরনিগমের ভোট স্থগিত রয়েছে। শেষবার ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। পরে ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং বালির ৩৫টি ওয়ার্ড পুনর্গঠন করে ১৬টি ওয়ার্ড হিসেবে হাওড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে রাজ্য সরকার নতুন বিল এনে বালি ও হাওড়াকে আবার আলাদা করে। সে সময় তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বালিতে খরচ হওয়া অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

এবার সেই জটিলতা মিটিয়ে নতুন আইনি কাঠামোয় ৬৬টি ওয়ার্ড নিয়ে হাওড়া পুরসভাকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অনুমোদন দিলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। এরপর ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস সম্পন্ন হলে পুরভোটের পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়কেরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত না থাকলেও পুর প্রশাসনে অভিজ্ঞ বিধায়কদের আলোচনায় অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, একই দিনে আরও একটি বিল এনে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব আনা হচ্ছে। কৃষ্ণনাথের নাম বাদ পড়ায় স্থানীয় মানুষের আবেগে আঘাত লেগেছিল বলে দাবি। সেই কারণেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


Share