Accident

হাওড়ায় নির্মীয়মাণ ট্রেড সেন্টারে দুর্ঘটনা, উপর থেকে লোহার পাইপ পড়ে প্রাণ হারালেন দুই যুবকের

হাওড়া পুরভবনের পিছনে নির্মীয়মাণ বহুতল ট্রেড সেন্টারে ১১ তলা থেকে লোহার পাইপ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল দুই যুবকের। নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হাওড়ার ট্রেড সেন্টার
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৭

হাওড়া পুরভবনের ঠিক পিছনে গড়ে ওঠা বহুতল ট্রেড সেন্টারে বিপত্তি। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই যুবকের। মঙ্গলবার সকালে ১১ তলা থেকে একটি ভারী লোহার পাইপ ভেঙে নীচে পড়ে তাঁদের মাথায় আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই খোকন (৩১) ও শেখ ইরফানুল হক (৩০) প্রাণ হারান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খোকনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকায়। পেশায় তিনি দিনমজুর বা মুটে শ্রমিক ছিলেন। অন্যদিকে ইরফানুল কলকাতার কড়েয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি টুপি ও ছোট বস্ত্র সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জীবিকার প্রয়োজনে দু’জনেই নিয়মিত ওই ট্রেড সেন্টারে যাতায়াত করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাণিজ্যিক ভবনে নির্মাণকাজ চলছিল। মঙ্গলবারও ছাদে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ছাদের ধারে একটি লোহার পাইপ আটকানো অবস্থায় ছিল। আচমকা সেটি ভেঙে নীচে পড়ে যায়। সেই সময় ভবনের নীচে দাঁড়িয়ে খোকন ও ইরফানুল কথা বলছিলেন। উপর থেকে ছিটকে আসা পাইপ সরাসরি তাঁদের মাথায় আঘাত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইরফানুল সেদিন ব্যবসার সামগ্রী রাখতে এসেছিলেন। মালপত্র ওঠানো-নামানোর কাজে তাঁকে খোকন সাহায্য করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে উপর থেকে পাইপ পড়ে দু’জনের মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিন ছিল ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাটের বাজার। ফলে ট্রেড সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভিড় ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপরতলায় নির্মাণকাজ চললেও নীচে কোনও নিরাপত্তা ব্যারিকেড বা সুরক্ষা জাল টাঙানো ছিল না। বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে যে সুরক্ষা বিধি মেনে চলার কথা, তা মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

খবর পেয়ে হাওড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরে পুলিশ কমিশনার আকাশ মেঘারিয়া-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন। কমিশনার জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সময় অসাবধানতার ফলেই পাইপটি পড়ে যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল কি না এবং কার দায়িত্বে ত্রুটি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

মৃত ইরফানুলের ভাই শেখ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দুর্ঘটনার পর উপরতলায় কর্মরত শ্রমিকদের কেউ নীচে নেমে সাহায্য করতে আসেননি। তাঁর দাবি, প্রায় ২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এত বড় নির্মাণকাজ কীভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই চলতে পারে?” অন্যদিকে ভবন নির্মাণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট অংশে একটি ঠিকাদার সংস্থা কাজ করছিল। তাদের ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থা।

এই ঘটনার পর নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।


Share