Rape Allegations

মামিকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ ভাগ্নের বিরুদ্ধে, লোকলজ্জায় সম্পর্ক অস্বীকার করছেন ‘প্রেমিকা,’ দাবি ধৃত যুবকের

১৪ নভেম্বর ওই তরুণীর স্বামী কেশিয়ারি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। গত ২০ নভেম্বর স্ত্রী নিজেই বাড়িতে চলে আসেন। এর পরেই কেশিয়াড়ি থানায় ভাগ্নের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর
  • শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:১৭

মামিকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ ভাগ্নের বিরুদ্ধে। যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে। ধৃতের পাল্টা দাবি, মামি তাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। লোকলজ্জায় পড়ে এমন অভিযোগ করছে।

অভিযোগকারিণীর বয়স ৩২ বছর। ধৃত যুবকের বয়স ৩০ বছর। দু’জনেই কেশিয়াড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা সম্পর্কে মামি এবং ভাগ্নে। দু’বছরের বড় মামিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৪ নভেম্বর ওই তরুণীর স্বামী কেশিয়ারি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। গত ২০ নভেম্বর স্ত্রী নিজেই বাড়িতে চলে আসেন। এর পরেই কেশিয়াড়ি থানায় ভাগ্নের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

যদিও অভিযুক্তের দাবি ভিন্ন। শনিবার আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত দাবি করে, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। যুবককের দাবি, মামির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সেটা এক-দু’দিনের নয়। চার বছর ধরে সম্পর্কে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘মামিমার সঙ্গে চার বছর ধরে ভালবাসার সম্পর্ক আমার। মামিমাই একদিন বলেছিল, ‘চলো, আমরা কোথাও পালিয়ে যাই। হলদিয়ায় গিয়েছিলাম আমরা।’’ ধৃতের দাবি, এখন লোকলজ্জার ভয়ে ধরা পড়ে গিয়ে তাঁর নামে নালিশ করেছেন ‘প্রেমিকা’ মামি।

অভিযোগকারিণীর স্বামী অর্থাৎ অভিযুক্তের মামা বলছেন, এখন তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। আইন-আদালতের মাধ্যমেই ফয়সালা হবে।

অভিযুক্তের মা গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত। প্রৌঢ়ার কথায়, ‘‘আমি জানতাম না, ওদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জানলে নিশ্চয়ই বাধা দিতাম। আমার ছেলেও বিবাহিত। ওর মামিমা ওকে প্রায়শই ফোন করে ডাকত চাষবাস-বাড়ির কাজে সহযোগিতা করার জন্য। আমিও আমার ভাইয়ের বৌকে খুব ভালবাসতাম। শেষে ওই ফাঁসিয়ে দিল আমার ছেলেকে!’’

পুলিশ জানাচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের অভিযোগ তেমন জোরাল নয়। তবে ধর্ষণের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘শুক্রবার অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আমরা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।”


Share