Lagnajeeta Chakraborty Harrasment

‘অনেক জাগো মা হয়েছে, এ বার একটু সেকুলার গা,’ স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থা, গ্রেফতার স্কুলমালিক মেহবুব মল্লিক

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, লগ্নজিতাকে দীর্ঘ ক্ষণ ভগবানপুর থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত এসপি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না।

লগ্নজিতা চক্রবর্তী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক
  • শেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৩০

‘অনেক ‘জাগো মা’ হয়েছে, এ বার একটু সেকুলার গা।’ এই বলে উঠে পড়ল স্টেজে। এর পরেই শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে উদ্দেশ‍্য করে অকথ‍্য গালিগালাজ। এমনকি শিল্পীকে মারধর করতে উদ্যত হল স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন লগ্নজিতা। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ভগবানপুরের সাউথ পয়েন্ট পাবলিক স্কুলে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, শুরুতে কোনও গোলযোগ ছিল না। শান্ত ছিল পরিবেশ। তাঁর কথায়, “অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। ৭টা থেকে ৭টা ৪৫ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান চলে। প্রথম তিনটে গানের পর সুষ্ঠু ভাবে আমায় সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। ৭টা ৪৫ মিনিটে আমার গানের তালিকার সপ্তম গান গাওয়া শেষ হয়। অষ্টম গানে যাওয়ার আগে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখনই ঘটনাটি ঘটে।” গায়িকার অভিযোগ, ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ‘জাগো মা’ গানটি গেয়েছিলেন তিনি। তার কিছু ক্ষণ পরেই দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তি উঠে আসেন মঞ্চে। তাঁকে মারধর করতে উদ্যত হন। তবে উপস্থিত অন্যেরা ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন এবং মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান।

লগ্নজিতা জানিয়েছেন, মেহবুব মল্লিক নামের ওই ব্যক্তি তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করতে থাকেন। চিৎকার করে ওঠেন, “অনেক জাগো মা হয়েছে, এ বার একটু সেকুলার গা।” এর পরেই তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন।

শনিবার রাতেই তিনি ভগবানপুর থানায় যান। সেখানে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে সবিস্তার জানান। ওঁরা গায়িকাকে একটি জেনারেল ডায়েরি করতে বলেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। মেহবুব ওই স্কুলের মালিক। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এ ছাড়াও, ভগবানপুর থানার ওসির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করেছে জেলা পুলিশ। ওই থানার ওসি শাহেনশাহ হকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, লগ্নজিতাকে দীর্ঘ ক্ষণ ভগবানপুরথানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্তকে আড়াল করারচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত এসপি জানিয়েছেন, এই ঘটনায়কাউকে রেয়াত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, শনিবারের অনুষ্ঠানে পুলিশের অনুমতি ছিল কি না, যদিঅনুমতি থাকে তবে অনুষ্ঠানের সময়ে স্কুলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।


Share