Theft

শান্তিপুরে বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে লুট লক্ষাধিক টাকার গয়না

তালা ভেঙে প্রায় চার লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না ও শ্রীরাধাকৃষ্ণের দুটি সোনার মুকুট লুট করে চম্পট দুষ্কৃতীদের।

আলমারির ভল্ট ভেঙে বের করে নেওয়া হয়েছে সোনা ও রুপোর গয়না
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫১

বাড়ি খালি থাকার সুযোগে তালা ভেঙে ঢুকে লক্ষাধিক টাকার সোনা ও রুপোর গয়না লুটের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বাড়ির অন্য সদস্যরা যাতে বাইরে বেরোতে না পারেন, সেই জন্য তাঁদের ঘরের দরজাও বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। নদিয়ার শান্তিপুরের স্টেশন পাড়া এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ির এক যুবক এক দিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢোকে। অভিযোগ, প্রথমে তারা বাড়ির মূল গেটের তালা ভাঙে। এরপর পাশের ঘরে থাকা যুবকের মা ও ঠাকুমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে ড্রপবোল্ট বা হ্যাজবোল্ট দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। এরপর নিশ্চিন্তে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে লুটপাট।

অভিযোগ, ঠাকুরঘর এবং শোওয়ার ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। আলমারির ভল্ট ভেঙে বের করে নেওয়া হয় সোনা ও রুপোর গয়না। খোয়া গিয়েছে ৩০ গ্রামেরও বেশি সোনার গয়না। পাশাপাশি ঠাকুরঘরে থাকা শ্রীরাধাকৃষ্ণের দুটি সোনার মুকুটও নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া অলঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লক্ষ টাকারও বেশি বলে দাবি পরিবারের।

পরদিন বুধবার ভোরে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরোতে গিয়ে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মেয়ের মোবাইল ফোন থেকে এক প্রতিবেশীকে ফোন করেন তিনি। প্রতিবেশী এসে দরজা খুলে দেওয়ার পর বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, ছেলের ঘরের তালা ভাঙা। ঘরের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্রও তছনছ হয়ে রয়েছে। আলমারির ভল্ট ভেঙে সমস্ত গয়না নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, চুরির পর বাড়ির পিছনের দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জনবহুল স্টেশন পাড়া এলাকায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুলিশি নিরাপত্তা ও রাতের টহলদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ।

ঘটনার পর শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share