Medical Scam

সিএসআর তহবিলের-এর কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ, ইডির নজরে ৪০-র বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ব্যাঙ্কের আধিকারিক, গ্রেফতার ভুয়ো চিকিৎসক

ইডির বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ঘুরপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী, তছরুপ করা টাকা একটি অংশ হাওয়ালার মাধ‍্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, অন্তত ৪০টি পিএসইউ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক এই চক্রের যুক্ত রয়েছেন। তাঁরাই এই ট্রাস্টগুলিকে সিএসআর তহবিলের অনুদান দিয়েছিল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২৩

কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলের কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। টাকা পাইয়ে দেওয়ায় বড়সড় ঘুষ নেয়া হয়েছে। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ইসিআইআর দায়ের করে ইডি তদন্ত শুরু করেছে। ইডির দাবি, অন্তত ৪০টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (পিএসইউ), সরকারি ব্যাঙ্ক এবং একাধিক কর্পোরেট সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকেরা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্রকুমার চন্দ্রদেব সিংহ নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি চিকিৎসা করতেন বলে দাবি করেন। কিন্তু তাঁর কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা নেই বলেই তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, ধর্মেন্দ্রকুমার একাধিক নিবন্ধিত ট্রাস্ট এবং সংস্থার একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে সিএসআর প্রকল্পের নামে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থা থেকে সেই ট্রাস্টগুলিতে টাকা পাঠানো হত। এরপর সেই টাকা ঘুরিয়ে মূল দাতাদের কাছে ফেরত দেওয়া হত। এর মাঝখানে একটি অংশ কমিশন হিসেবে রেখে দেওয়া হত।

ইডির বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ঘুরপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী, তছরুপ করা টাকা একটি অংশ হাওয়ালার মাধ‍্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, অন্তত ৪০টি পিএসইউ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক এই চক্রের যুক্ত রয়েছেন। তাঁরাই এই ট্রাস্টগুলিকে সিএসআর তহবিলের অনুদান দিয়েছিল।

ইডির তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, একাধিক সিএসআর টাকা বরাদ্দ হলেও কিছু প্রকল্প আংশিক ভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। একাধিক প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়িত হয়নি। সেটাই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও মধ্যস্থতাকারীদের মোটা কমিশন দেওয়ার পর টাকা ছাড়া হত বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা দাবি করেছে। তাদের এ-ও দাবি, অতিরঞ্জিত করে ঠিকাদারদের খরচের বিল বানানো হয়েছে। খরচ বেশি দেখানো হয়েছে। যা প্রাথমিক ভাবে ভুয়ো বলেই মনে করছে তদন্তকারীরা। সেই টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে টাকা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, উচ্চমূল্যের চিকিৎসার ও মেডিকেল সংক্রান্ত সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ জোগানের মাধ্যম হিসেবে এই ট্রাস্টগুলিকে তুলে ধরা হত। কোনও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার জন্য অর্থের অভাবের কথা জানালে, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করানো হত। পরে সেই জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশের ভিত্তিতে ধর্মেন্দ্রকুমারের ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হত বলে ইডি জানিয়েছে।

গত ১ অক্টোবর এই মামলার তদন্তে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মোট আটটি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা হিসেব বহির্ভূত নগদ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং একাধিক শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আধিকারিক ও কর্পোরেট হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত লেনদেনের তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছে।

ইডি মনে করছে, হিসাবের মধ্যে থাকা অর্থকে হিসেব বহির্ভূত নগদে রূপান্তর করতে সিএসআর ব্যবস্থাকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয় মুম্বইয়ের জুহু থানায় ধর্মেন্দ্রকুমার চন্দ্রদেব সিংহের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর থেকে। তাঁর বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র মেডিকেল প্রাকটিশনার আইন, জাতীয় মেডিকেল কমিশন আইন এবং ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই ইডি ইসিআইআর দায়ের করা হয়।


Share