Reserve Bank Of India

রেপো রেট বাড়াল আরবিআই, ৫.৫০ শতাংশে ঋণের সুদ বাড়ার আশঙ্কা, জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশ

আরবিআই ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। ফলে ভাসমান সুদের ঋণের EMI বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৪% এবং জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১% করা হয়েছে।

আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১২

NC- ফলে ভাসমান সুদের হারে নেওয়া গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ-সহ বিভিন্ন ঋণের সুদ ও মাসিক কিস্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, ব্যাঙ্কের আমানতের সুদের হারও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশেষে জল্পনার অবসান। প্রায় চার বছর পর রেপো রেট বাড়াল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম রেপো রেট বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ফলে ভাসমান সুদের হারে নেওয়া গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ-সহ বিভিন্ন ঋণের সুদ ও মাসিক কিস্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, ব্যাঙ্কের আমানতের সুদের হারও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিন দিনের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার নতুন রেপো রেট ঘোষণা করেন আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র। তিনি জানান, সর্বসম্মতিতেই ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ এবং ইরান যুদ্ধের জেরে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন তিনি।

রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয় আরবিআই। এই হারের সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলির ঋণের সুদের হারও যুক্ত। ফলে রেপো রেট বাড়লে ভাসমান সুদের হারে নেওয়া ঋণের সুদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তার প্রভাব পড়তে পারে মাসিক কিস্তিতেও।

এ বারের মুদ্রানীতি বৈঠকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে আরবিআই। ২০১৮ সালের পর প্রথম বার মুদ্রানীতির অবস্থান ‘নিরপেক্ষ’ থেকে সরিয়ে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ বা সুপরিকল্পিত সঙ্কোচনমূলক নীতির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ অবস্থানের অর্থ, অর্থনীতির পরিস্থিতি অনুযায়ী সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ খোলা রাখা। কিন্তু সঙ্কোচনমূলক অবস্থান তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়লে সুদের হার আরও বাড়ানোর পথ খোলা রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

চলতি অর্থবর্ষের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসও ৪.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৪ শতাংশ করেছে আরবিআই। তবে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

আরবিআই জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় ছিল। উৎপাদন ব্যয়ের চাপ থাকলেও উৎপাদন ক্ষেত্রের কার্যকলাপ স্থিতিশীল রয়েছে। পরিষেবা ক্ষেত্রও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। স্থায়ী বিনিয়োগ এবং রফতানির পরিস্থিতিও ইতিবাচক। ব্যক্তিগত ভোগ ও বিনিয়োগই আগামী দিনে বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

তবে অর্থনীতির সামনে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। স্বল্পস্থায়ী পণ্য এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথা জানিয়েছে আরবিআই। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নও বৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টি এবং ‘এল নিনো’-র সম্ভাবনা রবি শস্যের মরসুমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


Share